ঢাকাশুক্রবার , ১৩ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

অভিনেতা শামীমের প্রতারণার জাল, সংসার খরচ ৮০ হাজার টাকা

admin
মার্চ ১৩, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অভিনেতা শামীমের প্রতারণার জাল, সংসার খরচ ৮০ হাজার টাকা
Dhakanewsbd24
প্রকাশ :১৩ মার্চ ২০২৬
স্মৃতি বড় অদ্ভুত জিনিস।
এক চিমটি সাফল্য পেলেই অনেকেই নিজের শিকড় ভুলে যায়।
এই মানুষটিও একসময় খুব দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছে। তার বাবার পেশা ছিল রিকশা চালানো। নিজেরও তেমন কোনো পড়াশোনা ছিল না। জীবনী নিয়ে একটি ভিডিওতে বলা হয়েছিল—জীবনের শুরুর দিকে সে কুলিগিরি করেছে, রিকশা চালিয়েছে, এমনকি চুরি ও পকেটমারির মতো কাজেও জড়িয়েছিল। পরে নাটকের প্রোডাকশনে ছোটখাটো কাজ করত—চা-নাস্তা দেওয়া, বিভিন্ন ফরমায়েশ খাটা, এই ধরনের কাজ।
সেই সময় নির্মাতা আফসানা মিমি একুশে টেলিভিশনের জন্য নির্মাণ করছিলেন “বন্ধন” সিরিজ নাটক। সেখানে “লোকমান” নামে একটি চরিত্র ছিল, সম্ভবত বাসার কাজের লোকের চরিত্র। যে ছেলেটিকে প্রথমে এই চরিত্রের জন্য নেওয়া হয়েছিল, সে দুই দিন কাজ করার পর আর আসেনি। কোনো পরীক্ষার কারণে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখনই আফসানা মিমি এই মানুষটিকে সেই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন।
নাটকটি সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। এতে অভিনয় করেছিলেন ইন্তেখাব দিনার ও বিজরী বরকতউল্লাহসহ অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী। জানা যায়, এই নাটকেই প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে দিনার ও বিজরীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। এত বড় বড় অভিনেতাদের মাঝে কাজ করতে গিয়ে “লোকমান” চরিত্রের অভিনেতা শামীম হোসেনও ধীরে ধীরে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
এরপর তার কাছে আসে একটি বিজ্ঞাপনের কাজ—ক্রিকেটভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপন। সেখানে তিনি ছিলেন মূল চরিত্র। সত্যি বলতে, সেই বিজ্ঞাপনের জন্য তাকে নির্বাচন করাটা যথার্থই ছিল। বিজ্ঞাপনটি খুব জনপ্রিয়ও হয়েছিল।
গল্পটা এখানেই সুন্দর থাকতে পারত, যদি পরের অধ্যায়টা অন্যরকম হতো।
মিডিয়ার অনেকেই তাকে সতর্ক করেছিলেন—
“এই লাইনে কাজ সবসময় থাকে না। টাকা জমাও, ভবিষ্যতের কথা ভাবো।”
কিন্তু মানুষের একটি বড় দুর্বলতা আছে—ভাগ্য একটু হাসলেই আমরা ধরে নিই সেই হাসি বুঝি চিরস্থায়ী। এরপর শোনা গেল, হাতে টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে জীবনে ঢুকে পড়েছে নেশা, জুয়া আর বেহিসাবি খরচের অভ্যাস। আর আমরা জানি, যে সাফল্য খুব দ্রুত আসে, তা অনেক সময় খুব দ্রুতই হারিয়েও যায়।
আজ সেই মানুষটিই বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজের কষ্টের কথা বলছেন। বলছেন, সংসার চলে না। তিনি নাকি এখন রিকশা চালাতে পারবেন না, বাদাম বিক্রি করতে পারবেন না, কোনো কায়িক শ্রম করতে পারবেন না—কারণ তাতে নাকি একজন শিল্পীর মান-সম্মান নষ্ট হবে।
প্রশ্ন হলো—কয়েকটা কাজ করেই কি কেউ শিল্পী হয়ে যায়?
তার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সন্তানরা সরকারি স্কুলে পড়ে—এ নিয়েও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যেন সরকারি স্কুলে পড়া কোনো লজ্জার বিষয়। তাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে—তিনি কি মুকেশ আম্বানির বংশধর? কায়িক শ্রম করলে মান যাবে কেন? তিনি কি সুপারস্টার শাকিব খান ছিলেন?
তিনি বলেছেন, তার সংসার চালাতে মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাগে। অথচ এই দেশে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার বেতন সেই অঙ্কে পৌঁছাতে বহু বছর চাকরি করতে হয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই বিলাসী জীবনধারা কোথা থেকে আসে?
নেশা করলে মান-সম্মান যায় না?
জুয়া খেললে যায় না?
টাকা উড়িয়ে দিলে যায় না?
কিন্তু সৎভাবে পরিশ্রম করলে মান-সম্মান চলে যায়?
বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ আছে—যারা সৎভাবে রিকশা চালায়, বাদাম বিক্রি করে, দোকান দেয়, হকারি করে। তারা কি অসম্মানিত মানুষ? নাকি তারাই এই দেশের সবচেয়ে সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ?
আসলে আমাদের সমস্যা দারিদ্র্য নয়।
আমাদের সমস্যা বদঅভ্যাস।
যখন সামান্য সাফল্য আসে, আমরা ভাবি এটা বুঝি সারাজীবন চলবে। তখন বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দিই। কিন্তু বাস্তবতা যখন দরজায় কড়া নাড়ে, তখন মনে হয় পৃথিবী আমাদের সঙ্গে অন্যায় করছে। তখন আমরা ভিকটিম হওয়ার গল্প বলি।
শিল্পী হওয়া অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু সৎভাবে পরিশ্রম করাও সমান সম্মানের।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করলে সম্মান, আর জীবনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাজ করলে অসম্মান—এই ধারণা ভুল। জীবনও এক ধরনের নাটক, যদিও এখানে দর্শক সবসময় হাততালি দেয় না।
জীবনে সাফল্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই সাফল্যকে ধরে রাখা। ভাগ্য কখনো হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ে, কিন্তু সেই দরজা খোলা রাখার দায়িত্ব মানুষের নিজের।
সম্মান কোনো পেশায় নয়—সম্মান মানুষের সততায়।
যে মানুষ সৎভাবে ঘাম ঝরিয়ে রিকশা চালায়, দোকান দেয়, বাদাম বিক্রি করে—সে কখনো অসম্মানিত নয়। বরং সে-ই জীবনের সত্যিকারের লড়াকু মানুষ।
সমস্যা দরিদ্রতায় নয়। সমস্যা তখনই হয়, যখন মানুষ নিজের শিকড় ভুলে যায়।
মাটি ভুলে গেলে গাছ টেকে না—মানুষও না।
জীবনের মঞ্চে টিকে থাকতে একটা কথা মনে রাখা দরকার—
করতালি না পেলেও, সৎভাবে নিজের ভূমিকা পালন করাটাই আসল অভিনয়।
আর সেই অভিনয়ের নামই জীবন। ✍️