শাহজালালে বেবিচক কর্মচারীর নেতৃত্বে ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেট
DhakaNewsBD24
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির দাবি, এই চক্রের অন্যতম হোতা তাদেরই এক কর্মচারী—অ্যারোড্রাম অপারেটর আব্দুল বারী মোল্লা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদেশগমনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি থাকা যাত্রীদের অবৈধভাবে ইমিগ্রেশন পার করাতে ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে চক্রটি। এর জন্য প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বারী মোল্লা বিমানবন্দরে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের কিছু অসাধু কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট মূলত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়ে মানবপাচারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পন্ন করে।
ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের জন্য বারী মোল্লা বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি ওমরা ভিসায় যাত্রীদের সৌদি আরব পাঠিয়ে সেখান থেকে কাতার, মিশর বা সিরিয়া হয়ে নৌপথে ইতালি পাচার করে। এছাড়া ভারত, শ্রীলংকা ও দুবাই হয়ে একই রুটেও পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় এই চক্রের কার্যক্রম নতুন করে গুরুত্ব পায়।
গত ৩০ মার্চ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স। এ ঘটনায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশির পর চক্রটির কার্যক্রম উন্মোচিত হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারী মোল্লা তার মোবাইল ফোন গোপনে লুকিয়ে রাখলেও পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সেটি উদ্ধার করা হয়। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণে ইমিগ্রেশন পুলিশ, ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, বারী মোল্লার সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন তার ভাগনে সাখাওয়াত, মো. আলাল এবং শিফা এয়ার ট্রাভেলসের মালিক আমিনুল ইসলাম কায়কোবাদ। তারা ভিসা ও টিকিট ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন।
একাধিক এয়ারলাইন্সের কিছু কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইন্ডিগো, সৌদি এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, জাজিরা ও সালাম এয়ার। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বলেন, “তদন্ত চলছে। প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের জন্য বেবিচকে কোনো স্থান নেই।”
এদিকে, ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, “বিমানবন্দর ব্যবহার করে মানবপাচারের ঘটনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা আব্দুল বারী মোল্লাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী আবির আসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:১২০ নর্দান ভার্সিটি রোড( দ্বিতীয় তলা) এয়ারপোর্ট, ১২৩০ ঢাকা।
phone :01933661936
Email : dhakanewsbd24@gmail.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫