জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড
Dhakanewsbd24
নিজস্ব:প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার দুপুর আড়াইটায় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ৬ ভাগে বিভক্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সারাংশ দুই ঘণ্টা ধরে আদালতে পাঠ করেন প্রধান বিচারক।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে এ ধরনের রায় হলো।
লাইভ সম্প্রচার ও কঠোর নিরাপত্তা
রায় ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বড় পর্দায়ও বিচার দেখানো হয়।
রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, ডিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনাও দায়িত্ব পালন করছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাক দেওয়া লকডাউন ও শাটডাউনের নামে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে।
পলাতক আসামি ও রাজসাক্ষী
হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারত আশ্রিত বলে জানা গেছে। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
অভিযোগ ও তদন্তের বিবরণ
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রসিকিউশন ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেয়। যার মধ্যে —
তথ্যসূত্র: ২,০১৮ পৃষ্ঠা
জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণ: ৪,০০৫ পৃষ্ঠা
শহীদদের তালিকা: ২,৭২৪ পৃষ্ঠা
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়—২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরাসরি বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে নির্দেশ দেন। এসব নির্দেশনার ফলে ১,৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত বা নির্যাতিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

