ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

শাহজালালে দুর্নীতির সিন্ডিকেট: উপ- পরিচালক কামরুজ্জামানের সাম্রাজ্য

কাজী আবির আসলাম
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ১:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শাহজালালে দুর্নীতির সিন্ডিকেট: উপ-পরিচালক কামরুজ্জামানের সাম্রাজ্য

Dhakanewsbd24 | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার। এই বিমানবন্দর ঘিরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বাজেট, সরবরাহ ও ক্রয় কার্যক্রম। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই বাজেট দেশের উন্নয়ন নয়; বরং কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের পকেটে ঢুকছে নিয়মিত। এই ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্যের’ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিযুক্ত হচ্ছেন সিভিল এভিয়েশন হযরত শাহজালালের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ

অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের সব জরুরি ক্রয় কার্যক্রমে বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আমল থেকে গড়ে ওঠা। ১২ জনের ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এই ১২ জনের বাইরে কোনো নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা উপ-পরিচালক কামরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ, তার ইশারায় কাজ ভাগ হয়ে যায়, আর বিনিময়ে কমিশনের টাকা চলে যায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পকেটে।

বাজেটের অস্বাভাবিক অংক

এক নজরে কিছু উদাহরণ—

ফার্নিচার মেরামত: ৬০ লাখ টাকা

মশার ওষুধ ছিটানো: ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা

ফুলদানি পরিষ্কার: ৪০ লাখ টাকা

টলি মেরামত: ৭৮ লাখ টাকা

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—যেখানে একটি সাধারণ টলি বাজারে কয়েক হাজার টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে শাহজালালে কেন তার দাম লাখে দাঁড়ায়?

বদলি হলেও ‘প্রভাবশালী ছাতা’

বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জড়িত থেকে কামরুজ্জামান এখনো প্রশাসনের ভেতরে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। এমনকি বদলির আদেশও ছয় মাসের জন্য ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে ‘উপরমহলের তদবিরে’।

অভিযোগে নাম আসা ঠিকাদাররা

কাজল তেজগাঁও)
মুন (তেজগাঁও)

মজিদ (খিলখেত)

বিক্রম (মহাখালী )

হাশেম (বাউনিয়া)

পলয় (মোল্লারটেক)

কাইয়ুম গোপালগঞ্জ)

রুমা দুলাল (মিরপুর)

রাসেল (মিরপুর)

জিয়া (গোপালগঞ্জ)
আরিফ (কাওলা)
সাব্বির

সবাই পলাতক শেখ হাসিনার অনুসারী
তাদের বাইরে কেউ কাজের সুযোগ পান না। এ নিয়ে অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

দুর্নীতির শেষ কোথায়?

প্রশ্ন একটাই—দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যদি এমন প্রকাশ্য লুটপাট চলে, তাহলে এর দায় কে নেবে? সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কি এসব দেখেও চুপ করে আছে? নাকি তারাও এই সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে পড়েছে?

জনগণ জানতে চায়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের হাত থেকে প্রশাসনকে মুক্ত করতে রাষ্ট্র কি পদক্ষেপ নেবে? নাকি এই দুর্নীতির রাজত্ব আরও বিস্তৃত হবে?