তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
Dhakanewsbd24 প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫
দশটি সাংগঠনিক বিভাগের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শেষে আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিএনপির সর্বশেষ বৈঠক। সোমবার রাতে ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আবেগপূর্ণ বক্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত অধিকাংশ মনোনয়নপ্রত্যাশী অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
সভায় তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জীবনের ঝুঁকি জেনেও জনগণকে ছেড়ে যাননি। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য লড়ে গেছেন। আজ আপনাদের কাছ থেকেও আমি সেই ত্যাগের মানসিকতাই প্রত্যাশা করছি।” তিনি আরও বলেন, “দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মনোনয়ন যিনি পাবেন, তার পক্ষেই সবাইকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে হবে। যে ত্যাগের ইতিহাস আমাদের রয়েছে, তা ভুলে গেলে চলবে না।”
সূত্র জানায়, বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং উপস্থিত নেতৃত্বও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি আদালতের একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, “আসল নেতৃত্ব সেই, যিনি দলের ঐক্য রক্ষায় নিজের স্বার্থ ত্যাগ করেন।”
ঐক্যের বার্তা ও কঠোর নির্দেশনা
সভায় তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে—
মনোনয়ন পাওয়ার পর কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ বা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করা যাবে না।
এতে দলের ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষতিকর হতে পারে।
যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে সবাইকে মাঠে কাজ করতে হবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আমরা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি। সেখানে ছিল ত্যাগ, মমতা ও দায়িত্ববোধের এক মানবিক আহ্বান। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো।”
রাজশাহী বিভাগের আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন, “দলের জন্য ১৭ বছরের ত্যাগ বৃথা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই—ধানের শীষের বিজয়।”
খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশী পারভেজ মল্লিক জানান, “ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তারেক রহমান। জাতীয় স্বার্থে দলকে শক্তিশালী করতে ঐক্যের বিকল্প নেই।”
বিএনপি মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনে দলের ভাগ্য নির্ধারণে এই ঐক্যের বার্তা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আবেগঘন বক্তব্য কার্যত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে দল ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকারে দৃঢ় করেছে।
দলের ভেতরে ঐক্য রক্ষা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্যে এই বৈঠককে বিএনপির রাজনৈতিক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

