“তৃণমূলে হতাশার সাগরে বিএনপি: গ্রুপিং, সালিশ বাণিজ্য ও কমিটি সংকটে দিশেহারা সংগঠন”
—
সম্পাদিত নিউজ
Dhakanewsbd24
প্রকাশ:২১ নভেম্বর ২০২৫
তৃণমূল বিএনপিতে চলছে হতাশার সাগর। গ্রুপিং, সালিশ বাণিজ্য, ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা এবং বহু এলাকায় সংগঠনগত কমিটি না থাকা—এসবই বিএনপির তৃণমূল কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও শহর পর্যায়ে পরিপূর্ণ কমিটি নেই। কেন নেই—এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা স্থানীয় কোনো নেতা-কর্মী দিতে পারেননি।
গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্যাগী কর্মীরা আরও বেশি করে অবহেলিত হচ্ছেন। তাদের জায়গা দখল করছে সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতা-কর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে নমিনেশন পাওয়া কিছু নেতার অনুসারীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে—“বাংলাদেশের কোথাও বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই।”
এ অবস্থায় সংগঠনের ভাঙন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
গ্রুপিংয়ের শিকার তরুণ নেতা ইউনুস শরীফ
ভোলা-৪ আসনের তরুণ ছাত্রদল কর্মী ইউনুস শরীফ সম্প্রতি লাইভে তার রাজনৈতিক জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। জানা গেছে, তিনি নাজিম উদ্দিন আলমের অনুসারী।
নিজের লাইভে তিনি জানান—
অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেও রাজনৈতিক হয়রানির কারণে বাসে হেলপারি করতে হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নির্যাতনে বর্তমানে তিনি মারাত্মকভাবে পঙ্গুত্বের দিকে যাচ্ছেন।
পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতি করার কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে; এমনকি তার বাবা মারা গেছেন নির্যাতনের পরিণতিতে।
তার দাবি—জননেতা তারেক রহমান যেন তৃণমূল কর্মীদের প্রকৃত মূল্যায়ন করেন।
তিনি বলেন,
“দল যাকে নমিনেশন দেয় তিনি ভিন্ন ব্যক্তি হতে পারেন, কিন্তু দল তো এক! তাহলে কেন তৃণমূলে বৈষম্য চলবে?”
একইসঙ্গে তিনি নাজিম উদ্দিন আলমের জন্য শুভকামনাও জানান এবং বলেন যে তার বাবা আজীবন এই নেতার রাজনীতি করেছেন।
সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ তীব্র
বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ভয়াবহ হচ্ছে—এই সালিশ বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি লাঞ্ছিত হচ্ছেন বিএনপি-মনোভাবাপন্ন ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে সালিশ বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেও মাঠে বাস্তবতা ভিন্ন।
ইউনিয়নের বহু নেতা প্রকাশ্যে বলছেন—
“তারেক রহমান ইউিনয়ন চালায় না, চালাই আমরা। আমরা যা বলব তাই চলবে।”
এই ধরনের বক্তব্যে তৃণমূলে ক্ষোভ আরও বাড়ছে এবং সংগঠনের প্রতি আস্থা কমছে।
বিএনপি কি আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি?
তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন—
যদি গ্রুপিং, সালিশ বাণিজ্য, ত্যাগী কর্মী অবমূল্যায়ন এবং কমিটি সংকট দূর না করা হয়, বিএনপির সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
“এভাবে চলতে থাকলে তৃণমূল মুখ ফিরিয়ে নেবে, আর দল ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে দেশে আরেক ধরনের গণঅভ্যুত্থানের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।”
সমাধানে জরুরি উদ্যোগ দরকার
তৃণমূলে ঐক্য ফিরিয়ে আনা, পরিপূর্ণ কমিটি গঠন, সালিশ বাণিজ্য বন্ধ করা এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন—এসবই এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নেতৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ না নিলে সংগঠনের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তৃণমূল মনে করছে।

