সংকটে ভরসা তৃণমূল কর্মীরা, নেতৃত্বে দরকার পরিবর্তন
স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিগত ১৬ বছর ধরে মাঠে থেকেছে তৃণমূল বিএনপির লাখো কর্মী। জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা প্রতিনিয়ত লড়ে গেছেন—কখনো মামলা, কখনো গুলিবর্ষণ, কখনো বা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। দুপুরের লাঞ্চের পরিবর্তে ১০ টাকার বাদাম খেয়ে সারাদিনের প্রোগ্রাম সফল করেছেন এই সাধারণ কর্মীরাই।
পাঁচই আগস্টের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনতার প্রতিরোধ শক্তি নতুন এক মাত্রা পায়। হাজার হাজার কর্মী আহত ও নিহত হন, কিন্তু দেশের গণতন্ত্রের পতাকা তারা নামতে দেননি। এই সাহসী ত্যাগেই বিএনপি টিকে আছে, বেঁচে আছে।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আন্দোলনের পরে দেখা যাচ্ছে—এসি রুমের নেতারা এই সাধারণ কর্মীদের খোঁজ নিচ্ছেন না। জেলার বিভিন্ন থানায় বহু বছর ধরে কমিটি নেই। আর যারা আছেন, তারাও অনেকাংশে নিষ্ক্রিয়। তৃণমূলের কর্মীদের বড় অভিযোগ—আন্দোলনের সময় যারা রাস্তায় ছিলেন, তাদের চেনেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। অথচ এই কর্মীরাই বলেছেন—”আমরা দলের দুর্দিনে পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। কিন্তু দল কি আমাদের পাশে আছে?”
অন্যদিকে বিএনপির মিডিয়া কার্যক্রমও অত্যন্ত দুর্বল। বলার মতো কোনো গণমাধ্যম নেই। নিজস্ব মিডিয়া সেল থাকলেও তা অধিকাংশই কিছু নির্দিষ্ট নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। বারবার একই দশজনকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কমিটিতে বসানো হচ্ছে—যা তৃণমূল কর্মী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য হতাশাজনক।
বিএনপির উচিত এখনই ভুলগুলো শুধরে নেওয়া। মিডিয়া সেল পুনর্গঠন করতে হবে সাংবাদিক ও দক্ষ তরুণদের সমন্বয়ে। ত্যাগী ও মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়—সে দায়িত্ব বিএনপির নেতৃত্বকেই নিতে হবে।

