ঢাকারবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

admin
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক গুম দিবস
Dhakanewsbd24
প্রকাশ:৩০ আগস্ট ২০২৬
আজ ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’। ‘গুম’ শব্দটি ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম। যা মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। গুমের শিকার ব্যক্তিদের কেউ ফিরে আসতে পারে, কেউ কোনদিনই ফিরে না। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই। কেউ মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করতে পারেন, দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, কবর জিয়ারত করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হয়ে আর না ফিরলে সেক্ষেত্রে স্বজনদের শোক পালনের সুযোগটুকুও থাকে না। কী নির্মম!

‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’- এই প্রতিপাদ্যে এবার পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে সাত শতাধিক মানুষকে গুমের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ‘সৌভাগ্যবান’ কেউ কেউ পরিবারের কাছে ফিরেছেন। কিন্তু, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অনেকে এখনও ‘নিখোঁজ’। নিখোঁজদের স্বজনরা এখনও অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকেন, ডুকরে কাঁদেন। সন্তানহারা মা, নিখোঁজ বাবার সন্তান, তুলে নিয়ে গেছে এমন ভাইয়ের বোন, গুম হওয়া স্বামীর স্ত্রীসহ পরিবারের জিজ্ঞাসা- স্বজনেরা কোথায়? বেঁচে আছেন নাকি মেরে ফেলা হয়েছে? মেরে ফেলা হলে মরদেহ কোথায় সমাহিত করা হয়েছে? তাদের অনেকেরই এই প্রশ্নের জবাব হয়তো আর কোনদিনই মিলবে না।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করছে। জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এধরনের অপকৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

‘আয়নাঘর’ দুঃসহ স্মৃতি
ধরেই বেঁধে ফেলা হতো হাত ও চোখ। মুখমণ্ডল ঢেকে দিতে পরানো হতো টুপি। নিয়ে যাওয়া হতো গোপন বন্দিশালায়। জানালাবিহীন ছোট্ট কক্ষটিতে সার্বক্ষণিক উচ্চ আলোর বাতি জ্বলে। রাতদিন বোঝার উপায় নেই। কখনো কখনো বাতি বন্ধ করে দিত, তখন নেমে আসত ঘুটঘুটে অন্ধকার। এগজস্ট ফ্যানের বিকট শব্দের কারণে শোনা যেত না বাইরের কোনো শব্দ।

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ও পরে গোপন বন্দিশালা থেকে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন বন্দিশালার এমন চিত্র তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, ওই অজ্ঞাত বন্দিশালায় বেঁচে থাকাটাও ছিল দুঃসহ যন্ত্রণার। সারাক্ষণ মৃত্যুর প্রহর গুনতে হতো, এই বুঝি বের করে নিয়ে গেল। ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে তারা এখনও ভয়ে আঁতকে ওঠেন।

একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তুলে নেওয়ার পরপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করা হতো। কাউকে কাউকে মাঝেমধ্যে নিয়ে যেত নির্যাতনকক্ষে (টর্চার সেল)। চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরা অবস্থায় শৌচাগারে আনা- নেওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার অন্যদের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেত।

২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় দেখা গেছে, তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের মুখমণ্ডলে পলিথিন পেঁচিয়ে রেখে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পেট কেটে মৃতদেহের সঙ্গে সিমেন্ট বা ভারী বস্তু বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আবার কাউকে কাউকে লম্বা সময় পরে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আয়নাঘর নামের ব্যাখ্যায় দুই দফা গুমের শিকার সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, প্রহরীরা মাঝেমধ্যে অবজ্ঞা করে বলত, আয়নাঘরের মধ্যে আছেন। আয়নাঘর একটি রূপক নাম। যেখানে নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না।

শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরদিন ৬ আগস্ট গোপন বন্দিশালা থেকে ছাড়া পান দীর্ঘদিন গুম থাকা তিনজন। তারা হলেন- সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা মাইকেল চাকমা। প্রথম দুজন প্রায় আট বছর এবং শেষের জন পাঁচ বছরের বেশি সময় গোপন বন্দিশালায় ছিলেন।