ঢাকাশনিবার , ৭ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি

admin
মার্চ ৭, ২০২৬ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি
Dhakanewsbd24
প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ এক তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য যান্ত্রিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ওই উড়োজাহাজ দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়, যাতে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি সম্প্রতি এ প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশিক্ষণ—এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম ঘটে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম সময়। এছাড়া ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার সঠিক কোনো নথিপত্রও তদন্ত কমিটির কাছে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও তা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় আবারও উড়োজাহাজটির ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবুও ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যবস্থাপনায় এই গুরুতর অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, একটি উড়োজাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্যটিতে লাগানো এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ পরিবহনের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনাকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটিতে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীদের জানমালের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।