ঢাকাশুক্রবার , ১৩ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হয়েও মামলা তদন্তের সুযোগ পাচ্ছেন না পুলিশ সার্জেন্টরা

admin
মার্চ ১৩, ২০২৬ ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হয়েও মামলা তদন্তের সুযোগ পাচ্ছেন না পুলিশ সার্জেন্টরা
Dhakanewsbd24
প্রকাশ:১৩ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশের ‘দর্পণ’ হিসেবে পরিচিত নিরস্ত্র পুলিশ সার্জেন্টরা রাজপথে অপরাধ দমন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নিয়মিত মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনগত সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তাদের এ সুযোগ না দেওয়ায় দক্ষ জনবল যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, ছিনতাই কিংবা চোরাচালানের মতো ঘটনায় সার্জেন্টরাই অনেক সময় প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল (ফার্স্ট রেসপন্ডার) হিসেবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফলে প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (PRB) বিধি ৭৩৯(২) এবং ২০১৬ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, পুলিশ সার্জেন্টরা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) সমমানের সিলেবাসে এক বছর মেয়াদি কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ প্রশিক্ষণে মামলার তদন্ত, আইনের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকসহ অপরাধ বিশ্লেষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা সাব-ইন্সপেক্টরের সমমর্যাদায় পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৪৩, ৬৬, ৭২, ৭৫, ৮৪, ৮৭, ৮৯, ৯২ ও ৯৫ ধারায় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সার্জেন্টরা তদন্ত করে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করে থাকেন। একই আইনের ১১০ ধারায় তাদের বিনা পরোয়ানায় অপরাধী আটক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আইনটির ১০৫ ধারায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তে সার্জেন্টদের আইনগত কোনো বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। কারণ, একই আইনের ১২০ ধারায় সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টর উভয়কেই আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সার্জেন্টদের প্রস্তুত করা সিজার লিস্ট ও সুরতহাল রিপোর্ট আদালতেও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে ট্রাফিক ড্রাইভিং স্কুল (TDS) ঢাকা থেকে ‘সায়েন্টিফিক ইনভেস্টিগেশন ফর রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট’ শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন অনেক সার্জেন্ট।
অতীতের বিভিন্ন স্মারক ও আদেশ—যেমন ২০০৬ সালের ডিএমপি অধ্যাদেশ এবং ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ডিএমপি কমিশনারের জারি করা নির্দেশনা—পর্যালোচনায় দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪(১)(ঠ) ধারা অনুযায়ী তদন্ত বলতে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহকে বোঝানো হয়েছে। একইভাবে পুলিশ আইন-১৮৬১ এর ২৩(৬) ধারায় অপরাধের বৃত্তান্ত অনুসন্ধান, আসামি গ্রেপ্তার এবং আদালতে সোপর্দ করার দায়িত্ব পুলিশের ওপর অর্পিত রয়েছে।
পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (PRB) ২৫৮ বিধি অনুযায়ী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সার্জেন্টকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারেন। আইনের কোথাও সার্জেন্টদের তদন্তে বাধা দেওয়া হয়নি; বরং সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নয়—এমন কর্মকর্তাদের তদন্তভার দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সার্জেন্টদের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে সড়কে সংঘটিত অপরাধের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে এবং থানার তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর মামলার অতিরিক্ত চাপও কমবে। এতে প্রায় ২ হাজার ২০০ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ডিগ্রিধারী মেধাবী সার্জেন্টদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাবে।
পুলিশ আইন-১৮৬১ এর ১২ ধারা অনুযায়ী পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চাইলে একটি পরিপত্র জারির মাধ্যমে এই দায়িত্ব বণ্টন করতে পারেন। তাই সার্বিক আইনি দিক বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।