প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ড নিয়ে কিছু অজানা তথ্য
Dhakanewsbd24
প্রকাশ :১৯ জুলাই ২০২৬
এক. প্রথম ছবিটি মেজর (অব) মোঃ লতিফুল আলম চৌধুরীর। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জেনারেল মঞ্জুর স্টাফ অফিসার। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। পরবর্তীতে মৃত্যুদন্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র ৫ বছর ৭ মাস জেল খাটার পর স্বৈরশাসক এরশাদ তাকে মুক্তি দেন। ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে টুইস্ট আরো আছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি শিরিন আখতারের স্বামী। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকার তার স্ত্রীকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল।
দুই. দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ছবিগুলো যথাক্রমে মেজর এ ওয়াই এম মাহফুজুর রহমান, লেঃ কর্নেল মতিউর রহমান ও মেজর মোজাফফর এর। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় মূল অপারেশনে যে তিনজন ব্যক্তি ছিলেন অর্থাৎ যারা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কক্ষ পর্যন্ত গিয়েছিলেন এবং গুলি করেছিলেন তারা হলেন এই তিনজন। প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীর দায়িত্বে থাকা কর্নেল এহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজও তাদের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। এখন আমরা জানবো এ তিনজনের পরিণতি কী হয়েছিল। মার্শাল কোর্টের বিচারে মেজর এ ওয়াই এম মাহফুজুর রহমান এর ফাঁসি হয় এবং কার্যকর হয় (১৯৮১ সালে ২৩ শে জুলাই)। লেঃ কর্নেল মতিউর রহমান বিক্ষুব্ধ সৈনিকদের গুলিতে ১৯৮১ সালের ১ লা জুন নিহত হন। আর মেজর মোজাফফর দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সদ্য গ্রেপ্তার হন।
চার. শেষ ছবির সুদর্শন লোকটি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদের কুপ্ররোচনায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন করেছিলেন এই মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর। চতুর এরশাদ রাষ্ট্রের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ২ দিন পরই জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। মঞ্জুর হত্যা অনেক ঘটনাবহুল আলাপ। ধারণা করা হয় সেনাপ্রধান এরশাদ তার সংশ্লিষ্টতা গোপন করতে মঞ্জুরকে হত্যা করান। মঞ্জুর খুন হয়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ঘটনার অনেক রহস্য গোপনই থেকে যায়। মঞ্জুর হত্যার আগে অনেক ঘটনা ঘটেছিল। জেনারেল মঞ্জুর সপরিবারে পালাতে গিয়েছিলেন। সাথে ছিলেন লেঃ কর্নেল মতিউর রহমান। লেঃ কর্নেল মতি হাটহাজারিতে দলচ্যূত হন এবং অজ্ঞাত বন্ধুকধারীর গুলিতে নিহত হন। মঞ্জুরকে গ্রেপ্তার করে হাটহাজারি থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখান থেকে সেনারা তাকে হেফাজতে নেয়। এবং ১ লা জুন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় চট্টগ্রামের এক পাহাড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ১ জুন জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ কয়েকজন সিপাহি, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি স্ট্রেচার নিয়ে। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যও ছিলেন। তাঁরা ধারণা করে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় যান। গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে গিয়ে নতুন মাটিতে চাপা দেওয়া একটি কবর দেখতে পান। সেখানে মাটি খুঁড়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরও দুই সেনা কর্মকর্তার মৃতদেহ দেখতে পান তাঁরা। তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে মৃতদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর কোর্ট মার্শালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে জেনারেল এরশাদ নিজেদের সংশ্লিষ্টতা লুকানোর জন্য তড়িঘড়ি করে এ বিচার করতে গিয়ে মূল অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তারা ছাড়াও ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই এমন কয়েকজন সেনা অফিসারকেও ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন।
তখন মোট ১১ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল।
ফাঁসি কার্যকর হওয়া প্রধান সেনা কর্মকর্তারা হলেন:
কর্নেল এম এ রশীদ
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম দেলোয়ার হোসেন
মেজর এ ওয়াই এম মাহফুজুল হক
মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ
মেজর কাজী মোমিনুল হক।

