মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বকে আড়াল করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লতিফ সিদ্দিকী
DhakaNewsBD24 | প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে একাধিক সময়ে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল, জাল দলিল তৈরি এবং অপকর্ম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলে লড়াই করা এই মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার পর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ
১৯৭২ সালে তিনি ৬৬ শতক সরকারি জমি ইজারা নেন। বহু বছর ভোগদখলের পর সেখানে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করে নিজ নামে জাল দলিল তৈরি করেন। উচ্চ আদালতের রায়ে জমিটি বাজেয়াপ্ত করে সরকারের অধীনে নেয়া হয়। প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই জমি উদ্ধারের খবর ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত হয়।
টিকাটুলি ও আদমদীঘির জমি কেলেঙ্কারি
২০১১ সালের ৫ জুলাই ঢাকার টিকাটুলিতে ২.৮৫ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করেন তিনি। এই ঘটনা ঢাকা ট্রিবিউন-এ ২৩ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে প্রকাশিত হয়।
২০১২ সালের ২৭ মে প্রথম আলো জানায়, বগুড়ার আদমদীঘিতে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি পাটকেন্দ্রের জমি মাত্র ৪১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে বের হয়, লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদ আরও ৬৫ লাখ টাকার জমি আত্মসাত করে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলেন।
কালিহাতীতে জমি দখলের অভিযোগ
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটি এলাকায় দুই ভাই আবদুল মজিদ (৬৫) ও আব্দুল রশিদের (৫৮) মালিকানাধীন ১১৫ শতক জমি দখল করেন সাবেক এই মন্ত্রী। জমি কিনতে ব্যর্থ হলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেন। গ্রেপ্তার ও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দুই ভাই দেখেন তাদের খামার, পুকুর, গাছপালা সব বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু এই জমিই নয়—ওই এলাকার প্রায় ৪০০ শতক জমি লতিফ সিদ্দিকী নিজে বা পরিবারের নামে দখলে নিয়েছেন।
সমালোচনার ঝড়
মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে পুঁজি করে অপকর্ম চালানোর অভিযোগে লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত। প্রশ্ন উঠেছে— মুক্তিযুদ্ধের অবদান কি ব্যক্তিগত লুটপাটের বৈধতা দেয়?

