DhakaNewsBD24
প্রকাশ :১৫ আগস্ট ২০২৬
শূন্যতা পিছু ছাড়ছে না, এবার আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, কারাবরণ ও মামলা মোকাবিলার কারণে বিএনপির রাজনীতিতে হাবিব-উন-নবী সোহেলকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির অনেক নেতা যখন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রিত্বের মতো পদ-পদবি নিয়ে সরব ছিলেন, তখন সোহেলকে বরং নীরবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। আত্মপ্রচার থেকে দূরে থেকে নেতাকর্মীদের সময় দেওয়া, বই পড়া এবং সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকাই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে তারা মনে করেন।
বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এই নেতা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে আন্দোলন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবরণের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
দলীয় সূত্র ও নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তাকে একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও রিমান্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি আলোচিত অধ্যায় হলো ব্যক্তিগত ত্যাগ। আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা এবং পরবর্তীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো কঠিন সময়ও তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে পারেনি বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্কও রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে পারিবারিক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা। তাদের মতে, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সোহেলকে হতাশ বা হাল ছেড়ে দিতে দেখা যায়নি। বরং কঠিন সময়েও তিনি নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন।
বিএনপির অভ্যন্তরে এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন? এই আলোচনায় হাবিব-উন-নবী সোহেলের নামও সামনে আসছে। নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
তবে মহাসচিব পদ কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—শেষ পর্যন্ত কোন ভূমিকায় তাকে দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে হাবিব-উন-নবী সোহেল তাই শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একজন পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবেও আলোচিত। রাজপথে দলের কর্মসূচিতে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার কারণে বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।

