ঢাকাবুধবার , ৫ নভেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

নানা গল্পে ঘেরা মুঘল সেনাপতির দীঘি

admin
নভেম্বর ৫, ২০২৫ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নানা গল্পে ঘেরা মুঘল সেনাপতির দীঘি

নিজস্ব প্রতিবেদক
Dhakanewsbd24 | মাদারীপুর, ৫ অক্টোবর ২০২৫

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার খাতিয়াল গ্রামে রয়েছে এক রহস্যময় দীঘি—‘সেনাপতির দীঘি’। শত শত বছর ধরে এই দীঘিকে ঘিরে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে নানা গল্প ও বিশ্বাস। গ্রামের কেউ বিয়ে বা বড় কোনো অনুষ্ঠান করলে রাতে দীঘির পাড়ে গিয়ে থালা-বাসন, হাঁড়ি-পাতিল চাইলে ভোরে সেগুলো পানিতে ভেসে উঠত। অনুষ্ঠান শেষে আবার দীঘির পাড়ে রেখে দিলে রাতের আঁধারে মিলিয়েও যেত।

এখনও এই দীঘিকে ঘিরে মানত করেন অসংখ্য মানুষ। কেউ আসেন রোগমুক্তির জন্য, কেউ সন্তান লাভের আশায়, কেউ আবার সংসারে শান্তির কামনায়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, যে নিয়তে মানত করে এখানে গোসল করা হয়, সেই আশা পূরণ হয়ই। গোসল শেষে অনেকে পাশে থাকা মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয় হামিদ মোল্লা (৫০) বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখছি মানুষ মানত করে দীঘিতে গোসল করে। কারো না কারো ইচ্ছে পূরণও হয়। এটা যুগ যুগ ধরে চলছে।”
আরেকজন বাসিন্দা সমির মিয়া (৬৫) জানালেন, “আগে বিয়ের সময় রাতে দীঘির পাড়ে হাঁড়ি-পাতিল চাইলে ভোরে সেগুলো ভেসে উঠত। কিন্তু একবার চুরির পর আর কখনও দেখা যায়নি।”

ইতিহাসের সাক্ষী তিন শতকেরও বেশি সময়

ইতিহাস অনুসারে, মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খানের জ্যেষ্ঠপুত্র উমেদ খানের নেতৃত্বে ২৮৮ জন সৈন্য চট্টগ্রাম বিজয়ের পর নৌপথে বরিশাল ও পটুয়াখালী এলাকায় অভিযান চালান। ফেরার পথে তারা খাতিয়ালে বিশ্রামকালে পানির সংকটে পড়লে সেনাপতি ইসলাম খাঁ এ দীঘি খনন করেন।

১৬৬৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই দীঘির খননকাজ সম্পন্ন হয়। বিশাল এই জলাশয়ের আয়তন ৬০,৭০৩ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ২৮৮ মিটার, প্রস্থ ১৫৭ মিটার, গভীরতা প্রায় ১০ মিটার এবং পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দীঘিটি টিকে আছে নিজের মহিমায়।

কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাহাত হোসাইন বলেন, “মুঘল আমলের এই দীঘি এখনো টিকে আছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের গৌরব বহন করছে। এটিকে ঘিরে একটি সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।”

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুল আলম বলেন, “ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রশাসন সচেষ্ট। দীঘিটি পুরোনো ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন হওয়ায় এটির প্রতি আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।”