ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের ১৪ বছর, আজও মেলেনি সন্ধান
DhakaNewsBD24
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মো. ওয়ালিউল্লাহ ও তাঁর সহপাঠী আল-মুকাদ্দাস নিখোঁজের ১৪ বছর পার হলেও আজও তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি বাস থেকে সাভারের নবীনগর এলাকায় র্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাঁদের তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে দুই পরিবার। এরপর থেকে তাঁরা জীবিত না মৃত—এমন কোনো তথ্যও জানতে পারেনি পরিবার।
ওয়ালিউল্লাহর বাড়ি ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম শৌলজালিয়া গ্রামে। দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম সন্তান। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর সহপাঠী আল-মুকাদ্দাস ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে বাসটি ছেড়ে যায়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে সাভারের নবীনগরে একটি কালো গাড়ি বাসটির সামনে দাঁড় করানো হয়। এরপর র্যাবের পোশাক পরা ৮-১০ জনসহ সাদা পোশাকের কয়েকজন বাসে ওঠেন। তাঁরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ।
আল-মুকাদ্দাসের নিখোঁজের ঘটনায় ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর চাচা আবদুল হাই দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আর ওয়ালিউল্লাহর ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ আশুলিয়া থানায় জিডি করেন।
নিখোঁজের পর দুই পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ, পৃথক দুটি রিট, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হলেও তাঁদের সন্ধান মেলেনি।
২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। তবে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হান্নান শেখ সদস্যদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন। এরপর তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমও থেমে আছে।
ওয়ালিউল্লাহর বাবা বলেন, প্রতিবার ঈদ এলেও তাঁদের পরিবারে আনন্দ আসে না। তিনি জীবিত থাকলে সন্তানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। আর যদি তিনি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে মরদেহের সন্ধান এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যেই ওয়ালিউল্লাহকে গুম করা হয়েছিল।
ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলতে বলতে তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এত বছরেও ভাইয়ের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিচার ও প্রতিকার নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে পরিবারের মধ্যে।
১৪ বছর ধরে প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা দুই পরিবারের একটাই দাবি—ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের প্রকৃত অবস্থান জানানো হোক। তাঁরা জীবিত থাকলে ফিরিয়ে দেওয়া এবং না থাকলে তাঁদের মরদেহের সন্ধান করে পরিবারকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

