ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন উদ্ভাবক মনিরুল
DhakaNewsBD24
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটে যখন কৃষকরা দিশেহারা, ঠিক সেই সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মনিরুল ইসলাম নামে এক উদ্ভাবক পোড়া মবিল থেকে বিকল্প জ্বালানি তৈরির দাবি করে আলোচনায় এসেছেন। তার উদ্ভাবিত জ্বালানি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে সেচ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
মনিরুল ইসলামের দাবি, বিশেষ ধরনের একটি বুস্টার উপাদান মিশিয়ে পোড়া মবিলকে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি এই জ্বালানির নাম দিয়েছেন ‘মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল’ (ম্যাড)।
তিনি জানান, ২০০৭ সাল থেকে ডিজেল ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সে সময় তিনি শিক্ষকতা করতেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর কয়েক মাস আগে এর কার্যকর প্রয়োগে সফল হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মনিরুল বলেন, “চারটি উপাদানে তৈরি এই মিশ্রণটি মূলত বুস্টার হিসেবে কাজ করে। পোড়া মবিলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ বুস্টার মিশিয়েই বিকল্প জ্বালানি তৈরি করা যাচ্ছে, যা ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে ব্যবহার করা সম্ভব।”
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই জ্বালানি তাদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। কৃষক সোলাইমান শেখ বলেন, “ডিজেলের অভাবে আমরা সেচ দিতে পারছিলাম না। ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এখন এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে সহজেই পানি তুলতে পারছি।”
আরেক কৃষক জয়নাল আলী জানান, “এখন চাষের মৌসুম। আগে ডিজেল না থাকায় সমস্যায় পড়তাম। এখন এই পদ্ধতিতে সেচ চালাতে পারছি, খরচও কমছে।”
তবে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের ইন্সট্রাক্টর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এটি সাশ্রয়ী উদ্যোগ হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, বিষয়টি মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। “প্রাথমিকভাবে এটি ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে,” বলেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “ডিজেল সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ সম্ভাবনাময়। তবে এটি ব্যবহারে কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।”
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে মনিরুল ইসলামের উদ্ভাবন কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

