তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিএনপি থেকে কী পেল? হতাশার সাগরে কর্মীরা
dhakanewsbd24
প্রকাশ :৩০ আগস্ট ২০২৬
বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে এখন হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, মামলা-হামলা, আন্দোলন-সংগ্রামের পরও প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ করছেন দলের অনেক জুনিয়র ও তৃণমূলের নেতাকর্মী। তাদের প্রশ্ন—তৃণমূল বিএনপি থেকে শেষ পর্যন্ত কী পেল?
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ ও প্রভাবের কারণে জুনিয়র নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, যোগ্যতা ও ত্যাগের পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও প্রভাবই যেন অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এদিকে দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগও রয়েছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রেখেছেন, তাদের বিষয়ে দলীয়ভাবে কতটা কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে? এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও রাজনৈতিকভাবে পরিষ্কার অবস্থান দাবি করছেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের আরও আশঙ্কা, বিএনপির অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততা ও নেতৃত্বের নীরবতার সুযোগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে। কোথাও কোথাও মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে রাজপথে সংঘাত, নৈরাজ্য কিংবা সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। তখন এর দায় ও পরিস্থিতি মোকাবিলার দায়িত্ব কে নেবে—এ প্রশ্নও উঠছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, এখনই দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে হবে। সিনিয়র নেতৃত্বকে মাঠের নেতাকর্মীদের কথা শুনতে হবে এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। বেকারত্ব, হতাশা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা তরুণ নেতাকর্মীদের জন্যও বাস্তবসম্মত সাংগঠনিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা নেতাকর্মীদের গ্রহণ ও তাদের ভূমিকা নিয়েও তৃণমূলে প্রশ্ন রয়েছে। দলবদলকারী নেতাদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে। একই সঙ্গে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা যেন উপেক্ষিত না হন, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়; দলের অভ্যন্তরীণ হতাশা, নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা, তৃণমূলের ক্ষোভ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও নানা টানাপোড়েনের আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—বিএনপি দ্রুত বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সাংগঠনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কারণ তৃণমূল হতাশ হলে কোনো রাজনৈতিক দলই দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী থাকতে পারে না।

