ট্রাইব্যুনালের চার্জশিটে নাম আসা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জন হেফাজতে: সেনাসদর
Dhakanewsbd24
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫
‘গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়ানোর অভিযোগে সেনাবাহিনীর যেসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সেনা সদর।
শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন,
> “যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। আমরা মোট ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম, তাদের মধ্যে ১৫ জন এসে হেফাজতে রয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, তিনটি মামলায় মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা অভিযুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরে একজন, এবং বর্তমানে কর্মরত ১৫ জন।
৮ অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পর সেনাসদর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনাসদরে সংযুক্ত হতে হবে এবং ৯ অক্টোবরের মধ্যে হাজির হতে হবে। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি সবাই সেনাসদরে উপস্থিত হয়েছেন ও হেফাজতে রয়েছেন।
> “মেজর জেনারেল কবীর আত্মগোপনে গেছেন। তিনি যাতে বিদেশে চলে যেতে না পারেন, সেজন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে,” বলেন সেনা সদর কর্মকর্তারা।
এর আগে গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
প্রথম মামলায় র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (TFI) সেলে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগে ১৭ জনকে,
আর দ্বিতীয় মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (JIC)-এর নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
উভয় মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি জুলাইয়ের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। মামলায় আরও রয়েছেন তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং ডিজিএফআই-এর সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক।
মোট ৩০ আসামির মধ্যে ২২ জনই কর্নেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের ২১ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

