ডাকসুতে হেরে গেলেও বিএনপির জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ
Dhakanewsbd24
প্রকাশ :১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধাক্কা খেলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের জন্য এটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদাসীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডাকসুর নির্বাচনে বিএনপি পক্ষের প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। সংগঠনের ভেতরের কিছু সমস্যা বিশেষভাবে চোখে পড়েছে।
সাংগঠনিক দুর্বলতা: তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি নেই, থানা ও ইউনিট পর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি।
কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যর্থতা: ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সভাপতি-সেক্রেটারির উদাসীনতা ও বাণিজ্যিক মনোভাব নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
মানবিক কাজে অনুপস্থিতি: ছাত্রশিবির যেখানে অসহায় শিক্ষার্থীদের কোচিং সহায়তা, সিটের ব্যবস্থা ও এমনকি পড়াশোনার খরচ বহনের মতো মানবিক কাজে সক্রিয়, সেখানে ছাত্রদল অনেক পিছিয়ে আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপিকে সামনে এগোতে হলে পুরোনো ভাষা ও থিম বাদ দিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ এর রূপরেখায় কাজ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধী প্রসঙ্গ দিয়ে রাজনীতি টেকসই হবে না। বরং যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা, প্রতিটি থানায় সংগঠন পুনর্গঠন করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো এখন জরুরি।
এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বণ্টনের ক্ষেত্রেও বিএনপিকে সতর্ক হতে হবে। অর্থবিত্ত নয়, বরং যোগ্যতা ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব পোষণ করে—এমন মন্তব্য করে পর্যবেক্ষকরা বলেন, বিএনপিকে এই বিরোধী জনমতকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমেই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হবে। পকেট-কমিটি নয়, তৃণমূলকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ডাকসু নির্বাচনে হার বিএনপিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে বিএনপি কি সত্যিই নতুন করে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে পারবে?

