জনগণকে ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে সরকার: উপদেষ্টা মাহদী আমিন
Dhakanewsbd24
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল
জনগণকে ক্ষমতায়ন এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে “ডিএনএর নকশার উন্মোচন থেকে বাংলাদেশের বায়োইকোনোমির ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বায়োটেক খাতে সরকারের লক্ষ্য ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মানব ও প্রাণিসম্পদে টিকাদান কর্মসূচিতে স্বনির্ভরতা অর্জন এখন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন ও ওষুধ উৎপাদনে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যান্সারসহ জীবনঘনিষ্ঠ গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ খাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিনির্ভর উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তেল ও চিনি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিটরুট ও সরিষা চাষ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষা খাতে সংস্কারের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতার অভাব রয়েছে। তাই কারিকুলাম এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হয় এবং তাদের টেকনিক্যাল, ইন্টারপার্সোনাল ও ট্রান্সফারেবল স্কিল উন্নত হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিল কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে খাবারের পচনশীলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নন-পেরিশেবল, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উদ্ভাবনে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানো সম্ভব।
‘ব্রেন ড্রেন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটিকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করতে হবে, যাতে বিদেশে থাকা মেধাবীরা দেশের উন্নয়নে যুক্ত হতে পারেন। এজন্য যৌথ গবেষণা, ল্যাব সংযোগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে হাইটেক পার্ক, ইকোনমিক জোন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় এখনও দুর্বল। এ ব্যবধান দূর করতে ইনকিউবেশন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং গবেষণা-ভিত্তিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণকে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ করা। বিশেষ করে যুবসমাজ ও নারীদের উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনগুলো দেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

