বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি নড়বড়ে , জামায়াতের জয় নীরব প্রতিবাদের প্রতিফলন
Dhakanewsbd24 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়েছিল, যা ইতিহাসে এক বিরল অধ্যায়। কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে সেই তৃণমূলের শক্তি ক্রমেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। তৃণমূলের কাছে বিএনপি এখন যেন এক বোঝা, আর এই সুযোগেই ‘হাইব্রিড নেতা-কর্মীরা’ দলকে দখলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলের অভ্যন্তরে দেখা যাচ্ছে, ত্যাগী নেতাদেরকে উপেক্ষা করে সুবিধাবাদী ও অর্থশালী গোষ্ঠী বিভিন্ন কমিটিতে স্থান পাচ্ছে। যেসব কেন্দ্রীয় ও থানার নেতারা সরকারের পতনের পর আন্দোলনের মাধ্যমে তৃণমূলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তাদের অনেকে উল্টো আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নেতাদের টাকার বিনিময়ে রক্ষা করছেন। ফলে আওয়ামী ঘরানার অনেকেই বিএনপির ছায়াতলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি চালাচ্ছে। এতে হতাশ তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—দলের ভেতরের এই হাইব্রিড গোষ্ঠী সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও খুব দ্রুত তারা মুক্ত হয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এতে তৃণমূল নেতারা দিশেহারা, সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের হোঁচট খাওয়াতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে জামায়াতপন্থী ছাত্র সংগঠনের সাফল্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুসংগঠিত। তাদের অঙ্গ-সংগঠনগুলো পরিকল্পিতভাবে, শৃঙ্খলা মেনে কাজ করছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে তাদের ভোটব্যাংক প্রায় ১৫ শতাংশ হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে তারা ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হতে পেরেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক কাকতাল নয়; বরং বিএনপির সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং ভেতরের দুর্নীতি-সুবিধাবাদী রাজনীতির প্রতি ভোটারদের নীরব প্রতিবাদ।
ফলে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত যদি বড় ধরনের সাফল্য পায়, সেটি কোনো ‘অবাক হওয়ার নয় ’ বরং জনগণের ভোটের রায়ের প্রতিফলন হবে।

