ভবঘুরের ছদ্মবেশে ‘সিরিয়াল কিলার’: সাভারে পরিত্যক্ত ভবনে ৫ খুনের রহস্য উন্মোচন
Dhakanewsbd24
প্রকাশ :২০ জানুয়ারি ২০২৬
সাভার পৌর এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে, দ্রুত অভিযানে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-কে রোববার বিকেলে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
লাশের সূত্র ধরে ভয়াবহ রহস্য
সাভার কলেজের সামনে অবস্থিত পরিত্যক্ত ভবনটি গত ছয় মাসে যেন এক বিভীষিকাময় স্থানে পরিণত হয়। সর্বশেষ রোববার দুপুরে ওই ভবন থেকে এক নারী ও এক শিশুর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত বছরের আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে একই স্থান থেকে পৃথকভাবে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
একাধিক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে ‘সাইকো সম্রাট’
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী জানান, সর্বশেষ জোড়া খুনের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে এক ভবঘুরে ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাচল নজরে আসে। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মশিউর রহমান সম্রাটকে আটক করা হয়।
স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ভবঘুরে হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই পরিত্যক্ত ভবনে রাত যাপন করত। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন মানুষকে সেখানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করত এবং আলামত নষ্ট করতে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দিত।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্রাটকে তারা নিয়মিত এলাকায় ঘুরতে দেখলেও তাকে একজন সাধারণ ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি বলেই মনে করতেন। তার এমন ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে।
পুলিশের বক্তব্য
ওসি আরমান আলী বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও স্পর্শকাতর। আমরা উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। আসামিকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাভার মডেল থানা।

