ঢাকারবিবার , ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

রিকশাচালক রিজভী হাওলাদার: বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারীর অমর গল্প

কাজী আবির আসলাম
নভেম্বর ১৬, ২০২৫ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রিকশাচালক রিজভী হাওলাদার: বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারীর অমর গল্প
Dhakanewsbd24
নিজস্ব: প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫

জ্বি—ইনিই সেই মানুষ, সেই রিকশাচালক মরহুম রিজভী হাওলাদার।
রাজনীতির কঠিন সময়টাতে যখন হাজারো মানুষ পিছিয়ে ছিল, যখন আজকের মতো ‘লাখো মানুষের সাহস’ দৃশ্যমান ছিল না—ঠিক সেই ভয়ংকর নীরবতার দিনে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন রিজভী।

তার মুখে শোনা যেত সে দিনের অগ্নিঝরা স্লোগান—

★ “জেলে নিলে আমায় নে, আমার মাকে মুক্তি দে!”
—বেগম খালেদা জিয়া আমার মা, আমার নেত্রী।”

বেগম জিয়ার প্রতি এমন পাগলামি, এমন নিখাদ ভালোবাসা—এটা ছিল রিজভীর পরিচয়, তার গর্ব, তার অস্তিত্ব।

দুর্দিনের সৈনিক, সুদিনে প্রলোভনহীন

বছরের পর বছর পার্টি অফিসের সামনে রিকশা চালিয়েছেন।
সেখানেই তার ঠিকানা, সেখানেই তার পরিবার।
ছোটবেলায় মা হারিয়েছিলেন, বাবা অন্য সংসার গড়েছিলেন।
ঢাকায় এসে রিকশা ছিল তার জীবিকা, আর বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তার মা।

রিকশায় লাগানো ছিল খালেদা জিয়ার পোস্টার—
শুধু এই “অপরাধে” তার রিকশা পুড়িয়ে দেয় আওয়ামী লীগের লোকজন।

বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে অটো রিকশা দেওয়ার প্রস্তাব এলে তিনি দৃঢ় গলায় বলেছিলেন—

“কোনো লোভে বিএনপি করি না। দল করা আমার চরিত্র, রোজগারের রাস্তা লোকসান হলেও সমস্যা নেই।”

এটাই তো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—
“প্রকৃত কর্মী সে-ই, যে সুদিনে চরিত্র হারায় না, আর দুর্দিনে পালায় না।”
রিজভী ছিলেন সেই বাক্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

নেত্রী জেলে, রিজভী জেলগেটে

বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালে নিজের কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে ফলমূল কিনে জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি।
অনেকবার চেষ্টা করেছেন—
কিন্তু প্রশাসন তাকে খালেদা জিয়ার কাছে যেতে দেয়নি।

তবুও তিনি বলতেন—

“আমার নেত্রীকে, আমার মাকে—জেলে থাকতে দেব না।”

একজন রিকশাচালকের অসাধারণ রাজনীতি-শিক্ষা

ভাবতে পারেন?
শিক্ষা-ডিগ্রি নেই, ক্ষমতা নেই, পরিচয় নেই—
কিন্তু রাজনৈতিক বোধ, আনুগত্য আর আত্মত্যাগে সে ছিল লক্ষ মানুষের চেয়েও বড়।

সেই সময়ে যখন—

কেউ বিএনপিতে নাম লেখাতে চাইত না,

চারপাশে উপহাস, ভয়, হামলা, মামলা—

নতুন কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না…

ঠিক তখন হারিকেন হাতে, অমলিন বিশ্বাস নিয়ে বিএনপির পতাকা রক্ষায় রিজভী হাওলাদার ছিল একাকী আলো।

আজ ঘরে ঘরে বিএনপি—কিন্তু কোথায় সেই কান্ডারীরা?

আজ লাখো মানুষ বিএনপির পতাকাতলে।
যারা গতকাল ছিল না—আজ তারাই ভিড় করছে।
কিন্তু রিজভীর মতো প্রকৃত সৈনিকরা—
দুর্দিনের কান্ডারীরা—এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছে।

রিজভী হাওলাদারের স্বপ্ন ছিল একটাই—
বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত অবস্থায় দেখা।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে—তিনি সেই স্বপ্ন দেখে যেতে পারেননি।

শেষ বিদায়

২০২৩ সালের ডিসেম্বরের এক ঠান্ডা রাতে
বিএনপি পার্টি অফিসের প্রধান গেটেই
সংগ্রামের পথে মৃত্যুবরণ করেন
জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত
এই অনন্য নিবেদিত মানুষটি।

পরদিন বিএনপি তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মতো সম্মান দিয়ে
জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করে।
সেদিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাঁদছিলেন—
রিজভীকে হারানোর বেদনায়।

রিজভী হাওলাদার শুধু একজন রিকশাচালক ছিলেন না।
তিনি ছিলেন দলপ্রেম, ত্যাগ, আনুগত্য ও রাজনৈতিক সততার প্রতীক।