বাংলাদেশে যুবসমাজের নেশা ও গেম আসক্তি: হুমকির মুখে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
Dhakanewsbd24
অনুসন্ধানী রিপোর্টার :কাজী আবির আসলাম
প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৫২ শতাংশ জনগোষ্ঠী যুবক-যুবতী। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কোনো না কোনোভাবে নেশা বা আসক্তির মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ অনলাইন গেমে আসক্ত, কেউ মাদকাসক্ত, আবার কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকেও ঝুঁকে পড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা আসক্তি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে আসক্তির একটি বড় সূচনা হয় অনলাইন গেমের মাধ্যমে। প্রথমে বিনোদন হিসেবে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। দিন-রাত গেম খেলার প্রবণতা তৈরি হয়, যা একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার জন্য বন্ধুমহলের প্ররোচনায় কেউ কেউ ইয়াবার মতো মাদক গ্রহণ শুরু করে। এভাবেই গেম থেকে মাদক—এক ভয়ংকর চক্রে আটকে পড়ে তরুণরা।
দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যারা গেম ও মাদকাসক্ত, তারা ধীরে ধীরে পরিবার, পড়াশোনা ও কর্মজীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মানসিক সক্ষমতা কমে যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং সামাজিকভাবে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একসময় তারা পরিবারের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক পরিবার বিষয়টি দেরিতে বুঝতে পারে, যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পরিবার, সমাজ ও সরকার—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের জন্য বিকল্প বিনোদন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইন গেম নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অভিভাবক পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। কারণ প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, বরং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই বাস্তবসম্মত সমাধান।
যুবসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—নইলে একটি বড় প্রজন্ম ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

