১৯ বছরের যন্ত্রণার গল্প:ভুল অপারেশনের পর হামাগুড়ি দিয়ে জীবনের লড়াই,মৃত্যু অবধারিত ডাক্তারকে অভিশাপ দিয়ে লাভ কি
DhakaNewsBD24 | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬
২০০৭ সালে রাজধানীর শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে পায়ের অপারেশন—সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ ও কষ্টকর জীবনের পথচলা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আশ্বাস ছিল সুস্থ জীবনে ফেরার, কিন্তু বাস্তবতা হয়ে ওঠে তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এই ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারকে পোহাতে হয় চরম আর্থিক ও মানসিক চাপ। বিশেষ করে তার বাবা সন্তানের সুস্থতার আশা ভেঙে পড়ায় ভেতরে ভেতরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
অপারেশনের পর টানা দুই বছর শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। এমনকি নিজের শরীর নড়াচড়া করাও ছিল অসম্ভব। খাওয়া, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজই চলেছে বিছানায় শুয়ে।
দীর্ঘ সময় পর তিনি নতুন করে চলতে শেখেন—তবে পায়ে ভর দিয়ে নয়, হামাগুড়ি দিয়ে। আজও তিনি হাঁটতে পারেন না। সীমাহীন শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও থেমে থাকেননি জীবনসংগ্রামে।
তিনি জানান, একসময় চিকিৎসা ব্যবস্থার অবহেলার জন্য চিকিৎসকের প্রতি ক্ষোভ ছিল তার। তবে এখন সেই অবস্থান বদলেছে। “অভিশাপ দিয়ে কিছুই ফিরে পাওয়া যায় না”—এমন উপলব্ধি থেকেই তিনি জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে পেয়েছেন।
বর্তমানে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগলেও তিনি মানসিকভাবে দৃঢ়। সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে সম্প্রতি তার ব্যবহৃত কম্পিউটারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
পুরোনো হার্ডডিস্ক থেকে ১৯ বছর আগের একটি ছবি ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে আসে তার জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়।
সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, “গন্তব্যে পৌঁছাতে সবসময় দৌড়াতে হয় না—কখনো কখনো হামাগুড়ি দিয়েও পৌঁছানো যায়। আর সেই জয়ই সবচেয়ে সত্য।”
তার এই জীবনসংগ্রাম শুধু ব্যক্তিগত গল্প নয়—এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকার এক অনন্য উদাহরণ।

