ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি
সভাপতি পদে তসলিম আহসান মাসুমসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায়
Dhakanewsbd24
প্রকাশ :৩০ অক্টোবর ২০২৬
একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো তার সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন। দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজপথের কর্মসূচিতে যুবদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে পরীক্ষিত, ত্যাগী, দক্ষ ও কর্মীবান্ধব নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।
আসন্ন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিকে ঘিরে সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তসলিম আহসান মাসুম,আবুল হাসান টিটু, বিল্লাল হোসেন তালুকদার, মো. জুলহাস উদ্দিন ও মো: কামরুল হাসান
সভাপতি পদপ্রত্যাশী তসলিম আহসান মাসুম
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী তসলিম আহসান মাসুম রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে উঠে আসা একজন অভিজ্ঞ সংগঠক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং সাবেক সভাপতি, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির দুঃসময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মসূচি ও রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে দেখতে চান তাঁর অনুসারীরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের মূল্যায়ন করে তসলিম আহসান মাসুমকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি করা হোক।
আবুল হাসান টিটুকে মূল্যায়নের প্রত্যাশা
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আগামী কমিটিতে পরীক্ষিত নেতা আবুল হাসান টিটুকে যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। তিনি সাবেক বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের নেতা এবং যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা জানান। তাঁদের ভাষ্য, দলের কঠিন সময়ে রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা এই নেতার রাজনৈতিক ত্যাগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের প্রত্যাশা, আসন্ন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিতে আবুল হাসান টিটুকে তাঁর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সাংগঠনিক দক্ষতায় আলোচনায় মো: জুলহাস উদ্দিন
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা সংগঠক মো:জুলহাস উদ্দিন । ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক এজিএস এবং সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে ভূমিকা রেখেছেন বলেও তাঁরা জানান।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা।
তাঁদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ এই নেতাকে আগামী কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
নেতৃত্বের আলোচনায় বিল্লাল হোসেন তালুকদার
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিল্লাল হোসেন তালুকদার। ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকা তেজগাঁওয়ের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল; সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ; সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং সাবেক টিম প্রধান, উত্তরা পশ্চিম জোন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর।
দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বিগত সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
তাঁদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করে তাঁকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন।
দুঃসময়ের রাজপথের কর্মী মো. কামরুল হাসান
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল হাসানও নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। তিনি তেজগাঁও থানা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবরের পর তিনি মিরপুর জোনের কাফরুল থানার দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় নির্বাচনেও ঢাকা-১২ আসনে টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরছেন অনুসারীরা। তাঁদের দাবি, দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি পুলিশি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় কখনো রাজপথের মিছিল, কখনো প্রেসক্লাব কিংবা পল্টনের কর্মসূচিতে সংগঠনের ব্যানার নিয়ে উপস্থিত থেকেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে মো. কামরুল হাসানকে যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন তাঁর সহকর্মীরা।
ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি
রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না; বরং তৃণমূলের কর্মী, সংগঠক ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সংগঠন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আগামী কমিটিতে যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও কর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
তাঁদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যারা ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনের পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদান যেন নতুন নেতৃত্ব গঠনের সময় উপেক্ষিত না হয়। তাই তসলিম আহসান মাসুম, বিল্লাল হোসেন তালুকদার, মো. কামরুল হাসান, আবুল হাসান টিটু ও মো. জুলহাসের মতো পরীক্ষিত নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।
এখন দেখার বিষয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ত্যাগ, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।

