ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

আওয়ামী লীগের নেতা, বিআইডব্লিউটিএর ‘মাফিয়া ডন’ আরিফ উদ্দিন বহাল তবিয়তে

admin
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আওয়ামী লীগের নেতা, বিআইডব্লিউটিএর ‘মাফিয়া ডন’ আরিফ উদ্দিন বহাল তবিয়তে
প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
Dhakanewsbd24
বিশেষ প্রতিবেদক
লঞ্চে সেনা কর্মকর্তা ও সচিবকে লাঞ্ছিত করা থেকে শুরু করে নদী দখল, ঘাট ইজারা বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচার—নানা অভিযোগে অভিযুক্ত বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন শাখার প্রভাবশালী কর্মকর্তা এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিন এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই সময়কালে তিনি অন্তত ৫০০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি
ফেসবুকে তিনি পরিচিত ‘আরিফ হাসনাত’ নামে। তবে দাপ্তরিক নথিতে তার নাম এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিন। পিতা মৃত আলহাজ আব্দুল করিম। সরকারি কাগজে গ্রামের নাম রায়পুর লেখা থাকলেও প্রকৃত গ্রাম মাঝপাড়া, ইউনিয়ন মানিকহাট, থানা সুজানগর, জেলা পাবনা। অভিযোগ রয়েছে—পরিবার ও সম্পদের তথ্য গোপন করতেই এই ঠিকানাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
দুদক নারায়ণগঞ্জ ও সদরঘাট পোর্টে ২০১৯–২০২২ সময়কালের ব্যাংক হিসাব, ব্যক্তিগত নথি, বেতন-ভাতার বিবরণ, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ব্যবসা ও সম্পদের তথ্য চেয়েছে।
অঢেল সম্পদের পাহাড়
অভিযোগ অনুযায়ী—
এলিফ্যান্ট রোডে স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল বাড়ি
বসুন্ধরা ও বারিধারায় একাধিক ফ্ল্যাট
পূর্বাচলে প্লট
পাবনা ও সুজানগরে বিপুল জমিজমা
বসুন্ধরা ও নদী তীরবর্তী হাউজিং প্রকল্পে অংশীদারিত্ব
এছাড়া তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে ও মেয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। বিদেশে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
নদী দখল ও উচ্ছেদ বাণিজ্য
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীতে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের নামে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। সীমানা পিলার ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল স্থানে স্থাপন করে নদী দখলদারদের সুবিধা দেওয়ার ঘটনাও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
একাধিক মামলা ও বিতর্ক
নারায়ণগঞ্জ, কাঁচপুর, মদনগঞ্জ ও সদরঘাট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ, বন বিভাগের জমি বিক্রি, বৈধ ভবন ভাঙচুর, ট্রাক ও জাহাজ নিলাম, এমনকি লঞ্চে সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার ঘটনাও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটা বিরোধী আন্দোলন দমনে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন নিজের দাপট জাহির করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন থেকেই যায়
এত অভিযোগ, অনুসন্ধান ও মামলার পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা একই পদে বহাল থাকেন?
দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদৌ কি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—নাকি আরিফ উদ্দিন থাকবেন ‘অস্পৃশ্য’ই?