ঢাকারবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন করবে কোন দল, সমীকরণ কী বলছে

কাজী আবির আসলাম
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন করবে কোন দল, সমীকরণ কী বলছে
Dhakanewsbd24
প্রকাশ : ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রিপোর্ট : কাজী আবির আসলাম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন করবে কোন দল, সমীকরণ কী বলে। দীর্ঘ সতেরো বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। কোনভাবেই তাকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাচ্ছিল না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছে—কাউকে গুম করা হয়েছে, কাউকে জেলে ভরা হয়েছে, কাউকে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বললেই এটাই ছিল শেষ পরিণতি, যা ভোগ করতে হতো।
অবশেষে ৫ই আগস্ট ২০২৪, ছাত্র-জনতা ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের চেষ্টায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শক্ত প্রশাসন থাকার পরেও কেন শেখ হাসিনার পতন হলো, বা পদ্মার আড়ালে কারা ছিল। ক্ষমতা পেলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তখন আর দোষ-গুণ বোঝার চেষ্টা করে না।
বর্তমান পৃথিবীতে আমেরিকা যেমন ধনী, তেমনই ক্ষমতাধর। আমেরিকার কথা কমবেশি সবাইকে শুনতে হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা আমেরিকার কথা শুনতেন না, তিনি শুনতেন ভারতের কথা। ভারত এত বছর তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে রেখেছে বলেই ভারতের প্রতি শেখ হাসিনার ছিল অন্ধ বিশ্বাস। কিন্তু পৃথিবীর শক্তিধর দেশ আমেরিকা—এ কথা ভুলে গেলে চলে না।
যেহেতু শেখ হাসিনা আমেরিকার কথা শোনেননি, তাই আমেরিকান পরিকল্পনাও থেমে থাকেনি। যেই কথা সেই কাজ। ঠিক অভ্যুত্থানের তিন বছর আগে বিশ্বমিডিয়ায় শেখ হাসিনার দুর্নীতির ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশ পায়, যা আল জাজিরা প্রকাশ করে। আল জাজিরা দাবি করে, ওই রিপোর্টটি করতে তাদের দুই বছর লেগেছে।
এরপর আমেরিকা অনেক চেষ্টা করেছে শেখ হাসিনাকে বোঝানোর জন্য, যেন তিনি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো কর্ণপাত করেননি। ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশে আসেন, শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে বোঝানোর জন্য। আমেরিকা হারতে শেখেনি। ডোনাল্ড লুও কোনো রাষ্ট্র থেকে পরাজয় বরণ করে ফিরে আসেননি। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
এবার আসা যাক আমেরিকান রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের প্রসঙ্গে। পিটার হাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে হোয়াইট হাউজে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাতেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়কালেই ২২ জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি আবার ১৭ অক্টোবর ২০২৪ বাংলাদেশে আসেন। অপরদিকে শেখ হাসিনার পতনের পর ডোনাল্ড লু ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ বাংলাদেশ সফর করেন।
এই তথ্যগুলো দেওয়ার কারণ হলো—পাঠকরা যেন সহজেই বুঝতে পারেন, আগামী নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এটি কোনো বানানো গল্প নয়; দীর্ঘদিনের গবেষণায় উঠে আসা বাস্তবতা।
এখন প্রশ্ন হলো, গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার কে হবে। তখন সামনে আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। প্রশ্ন হলো—ইউনূস ছাড়া কি বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই? ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সময় ড. ইউনূস ছিলেন ফ্রান্সে। অভ্যুত্থানের তিন দিন পর তিনি দেশে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রশ্ন থেকেই যায়—ড. ইউনূসের নাম এলো কোথা থেকে, আর কারা তাকে ফ্রান্স থেকে পাঠালো?
আমি একটু পেছনে যাই। গণঅভ্যুত্থানের দিন ৫ই আগস্ট, যদি সেদিন সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাত, তাহলে ৫ই আগস্ট সৃষ্টি হতো না। তাহলে প্রশ্ন হলো—সেদিন সেনাবাহিনীকে কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করেছিল? বুঝতে কি আর বাকি রয়েছে?
যাই হোক, যারা বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পেছন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। অন্তত তাদের মাধ্যমেই হোক, ১৭ বছরের দমন-পীড়ন ও জনগণের বুকের ওপর চেপে বসা স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।
এবার আসা যাক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিষয়ে। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর তিনি কেন বাংলাদেশে এলেন? এর আগেও তো তিনি আসতে পারতেন, কিন্তু এতদিন আসেননি কেন—এ প্রশ্ন সহজ মাথায় বুঝে ওঠা কঠিন। বোঝার জন্য অনুসন্ধান জরুরি, সেই দায়িত্ব পাঠকের ওপরই থাকলো।
তবে বাস্তবতা হলো—আমেরিকা কখনোই জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন করবে না। সমর্থন করতে হলে তারা বিএনপিকেই করবে, সমীকরণ তাই বলে। অতএব, জনগণের রায় নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতার চেয়ারে বসবে।