ঢাকাশনিবার , ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ‘দেশে ছিলেন না’—এই যুক্তি কতটা প্রাসঙ্গিক?

কাজী আবির আসলাম
জানুয়ারি ১০, ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!


তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ‘দেশে ছিলেন না’—এই যুক্তি কতটা প্রাসঙ্গিক?
Dhakanewsbd24
প্রকাশ:১০ জানুয়ারি ২০২৬

মাহমুদুর রহমান কথা বলেন মার্জিতভাবে, ইতিহাস টেনে আনেন গুছিয়ে—ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিঃসন্দেহে একজন ভালো লাগার মানুষ। কিন্তু আজ হোটেল শেরাটনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য শুনে আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি যেন কোনো এক মধ্যযুগীয়, তথ্যপ্রযুক্তিবিহীন বিশ্বের বাস্তবতা তুলে ধরছেন।
তিনি বলেছেন, “তারেক রহমান সাহেব, আপনি দেশে ছিলেন না—আপনি জানেন না দেশে কী হয়েছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে জাতিকে কী বোঝাতে চেয়েছেন—লেখক হিসেবে আমি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারিনি। দেশের মানুষ তা কতটা বুঝতে পারছে, সেটিও আমার কাছে প্রশ্ন।
মাহমুদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত টেনেছেন—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধকালীন সময়ে দেশে ছিলেন না, পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন। ফলে তিনি সরাসরি রণাঙ্গনের যুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু ভারত সরকার ও তাঁর সহচরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যই বঙ্গবন্ধুর জন্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের অকাট্য দলিল ও ইতিহাস।
কিন্তু এই উদাহরণ টানার আগে মাহমুদুর রহমান সাহেবের একটি মৌলিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল—তারেক রহমান লন্ডনে কোনো “অন্ধকার কারাগারে” ছিলেন না। তিনি ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন, অনেকের মতে তাঁকে জোরপূর্বকই দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। তবুও তিনি এই পৃথিবীতেই ছিলেন, অন্য কোনো গ্রহে নয়—যেখানে বাংলাদেশের খবর পৌঁছায় না।
বরং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে লন্ডনে বসেই তারেক রহমান পুরো বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে একত্রিত রাখতে সক্ষম হয়েছেন—যা ইতিহাসে বিরল। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি লন্ডনে বসেই দেশের মানুষের অধিকার আদায় ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। তারই প্রমাণ তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
মাহমুদুর রহমান নিঃসন্দেহে একজন মেধাবী ও ধার্মিক মানুষ। তবু বিস্মিত হই, যখন তারেক রহমানকে বলা হয়—“আপনি দেশে ছিলেন না, তাই দেশের অবস্থা জানেন না।” জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনে ভূমিকা রেখেছে। এখানে আমি বলবো না তারেক রহমান একক কোনো ‘মাস্টারমাইন্ড’—এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ছিল পুরো জাতি।
তবে এটাও সত্য, তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ঠান্ডা মাথায় মাহমুদুর রহমানের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি সেমিনার ও বক্তৃতায় স্পষ্ট হয়—তিনি কতটা জানেন এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে কতটা দিতে পারেন।
আমি বিশ্বাস করি, তারেক রহমান সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন—বাবা-মায়ের মতোই দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।