এশিয়ার জলসীমায় ঢুকে তিন ইরানি জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
Dhakanewsbd24
২৩ এপ্রিল ২০২৬,
এশীয় জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে আটকে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানায়, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি অবস্থানে থাকা এই জাহাজগুলোকে তাদের গন্তব্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে ইরানের সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে গুলিবর্ষণ করছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস হলেও, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কার্যকর শান্তি আলোচনার কোনো ইঙ্গিত দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের একটি মালবাহী জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। জবাবে ইরান বুধবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টাকারী দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই ইরানের প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।
রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অন্তত তিনটি ইরানি ট্যাঙ্কারের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ট্যাঙ্কারগুলো হলো, ডিপ সি, সেভিন ও ডোরিনা।
ডিপ সি নামের সুপারট্যাঙ্কারটি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া উপকূলে এর অবস্থান শেষবার শনাক্ত করা হয়।
সেভিন ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ছোট ট্যাঙ্কার, যা ৬৫ শতাংশ পূর্ণ ছিল। এক মাস আগে মালয়েশিয়া উপকূলে এটি দেখা যায়।
ডোরিনা নামের ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারটিতে তিন দিন আগে দক্ষিণ ভারত উপকূলে দেখা যায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টার অপরাধে বর্তমানে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ এটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও দেরিয়া নামক আরেকটি জাহাজ মার্কিন বাহিনী আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা মোট ২৯টি জাহাজকে তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত হরমুজ প্রণালি থেকে দূরে খোলা সমুদ্রে ইরানি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যাতে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়িয়ে এই অপারেশন পরিচালনা করা যায়।

