নরসিংদী-২ পলাশে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে মঈন খানের নেতৃত্বে বিশাল পদযাত্রা — অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি!
Dhakanewsbd24
প্রকাশ:৯ নভেম্বর ২০২৫
◾বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের উপস্থিতিতে ডাংগা ইউনিয়ন যুবদলের বিশাল পদযাত্রা; জনগণের ভোটাধিকার ও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার।
📰 বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নরসিংদী-২ পলাশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পদযাত্রায় গণতন্ত্র, প্রবাসী রেমিট্যান্স ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার; প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দেন তিনি।
📝 মতিউর মুন্না | বিশেষ প্রতিবেদক:
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নরসিংদী-২ আসনের পলাশে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল পদযাত্রা, যেখানে নেতৃত্ব দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, পলাশ থেকে জনগণের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।
ডাংগা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে এই পদযাত্রাটি এক উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।
ডাংগা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও এতে উপস্থিত ছিলেন।
শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই পদযাত্রা যেন এক রাজনৈতিক মহাসমাবেশে পরিণত হয়।
মঈন খান তার বক্তব্যে বলেন,
“প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম ও রেমিট্যান্সের টাকায় আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে। প্রবাসীদের অবদান জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
🔸তিনি আরও উল্লেখ করেন,
“বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আজ যে গার্মেন্টস শিল্প আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের শীর্ষ খাত— তার স্থপতি তিনিই।”
🔸ড. মঈন খান বলেন,
“গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তি— দুটি ক্ষেত্রেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা অনন্য। তাঁর হাত ধরেই এই জাতি নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।”
🔸জুলাই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন:
“আমরা ১৬ বছর ধরে সংগ্রাম করেছি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পলায়ন ঘটেছে— এই আন্দোলন বিএনপির দৃঢ়তার প্রতীক।”
🔸তিনি প্রতিশ্রুতি দেন,
“আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলব। এবার জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ।”
🔸মঈন খান গভীর আক্ষেপের সুরে বলেন,
“গত ১৬ বছর ধরে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। সময় এসেছে, জনগণের ভোট ফিরিয়ে আনার।”
🔸প্রশাসনের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা:
তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সতর্ক হুঁশিয়ারি।
তিনি বলেন,
“প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলছি— ভোট নিয়ে কারচুপি করবেন না। যদি করেন, এর জবাব হবে কঠোর ও ভয়াবহ।”
🔸তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলেন আপনাদেরকে আমরা সম্মান করি, আপনারা আগামী নির্বাচনে কোনো রকম ভুল করবেন না।
🔸তিনি আরও যোগ করেন,
“আপনারা প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে অতীতে দলীয় রাজনীতি করেছেন। এবার জনগণ আপনাদের দেখছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করুন, নয়তো জনগণের রোষানলে পড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।”
তার এই বার্তা উপস্থিত জনতার মধ্যে প্রবল সাড়া তোলে। “গণতন্ত্র চাই”, “ভোটাধিকার চাই”— এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পদযাত্রা।
🔸ডাংগা ইউনিয়ন যুবদলের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি:
সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বলেন,
“ড. মঈন খান আমাদের নেতা, আমাদের আশা। আমরা তাঁর পাশে আছি, জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় লড়ব শেষ পর্যন্ত।”
🔸সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর খান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একতাবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ডাংগা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা লাল-সবুজ পতাকা হাতে পদযাত্রায় অংশ নেন।
গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়, যা পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি করে।
🔸প্রবাসী ও গার্মেন্টস খাতের প্রতি শ্রদ্ধা:
ড. মঈন খান বলেন,
“বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে আলো জ্বেলে রেখেছে প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত টাকা। তাদের রেমিট্যান্স আজ আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।”
🔸তিনি স্মরণ করিয়ে দেন,
“আমাদের গার্মেন্টস শিল্প বিশ্বের প্রথম সারিতে। এই শিল্পের জন্ম হয়েছিল বিএনপির সময়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাত ধরে। তাঁর সেই ভিশন আজও দেশের উন্নয়নের পথ দেখায়।”
🔸গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার:
পদযাত্রার শেষে ড. মঈন খান বলেন,
“আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি— ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্র ফিরবে, অধিকার ফিরবে, বাংলাদেশ আবারও দাঁড়াবে জনগণের হাতে।”
নরসিংদী-২ পলাশের এই পদযাত্রা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়— এটি ছিল জনতার প্রত্যাশা, আন্দোলনের প্রতিধ্বনি ও পরিবর্তনের আহ্বান।
“বাংলাদেশ জেগে উঠছে— গণতন্ত্র ফিরবে জনগণের ভোটে”— এই স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
🔸ভিডিও বার্তা ও গণজাগরণের আহ্বান:
শেষে মঈন খান বলেন,
“যে স্বৈরাচারী শাসন আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, সেই শাসনের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। প্রতিটি মানুষ যেন ভোট দিতে পারে— সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

