বিএনপি’র কে এই ‘চাঁদাবাজ’ মালেক? — অভিযোগে জর্জরিত উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান
Dhakanewsbd24
প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মালেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি— ইউনিয়ন পরিষদ অফিসকে তিনি “চাঁদাবাজির অঙ্গরাজ্য”তে পরিণত করেছেন। তার প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পান।
—
সালিশের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মালেক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নোটিশ পাঠিয়ে সালিশের নামে মানুষকে ডেকে নানান অজুহাতে টাকা আদায় করেন। স্থানীয়রা তাকে ব্যঙ্গ করে “সালিশ বাণিজ্যের রাজপুত্র” বলেও অভিহিত করেন।
স্থানীয়দের মন্তব্য—
দলীয় পরিচয়কে তিনি নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করেন; আওয়ামী লীগ-বিএনপি—কোনো পরিচয়ই তার কাছে মূল বিষয় নয়। তার একটাই লক্ষ্য, চাঁদা আদায়।
—
সাংবাদিকের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
ঢাকায় বসবাসরত এক সাংবাদিক, যিনি বিএনপি বিট করেন—অভিযোগ করেছেন, তার জমি দখলের চুক্তি করেন মালেক। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। ভুক্তভোগীর দাবি,
“আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও কাগজপত্র সঠিক থাকার কারণে আমাদের জমি কেউ নিতে পারেনি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও দখলচেষ্টা শুরু হয়।”
এই ঘটনায় তিনজনের নাম উঠে এসেছে—
১. মোহাম্মদ মিজান – অভিযোগকারী
২. মোহাম্মদ বেলাল – অভিযোগে বর্ণিত চাঁদাবাজ
৩. মোহাম্মদ মালেক – প্যানেল চেয়ারম্যান
—
বিএনপি প্রার্থীর আশ্বাসও অমান্য
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে অবহিত করা হলে তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। তবে মালেক সেই আশ্বাসকেও গুরুত্ব দেননি—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
“যার কথা একজন প্যানেল চেয়ারম্যানও গুরুত্ব দেয় না, তিনি কীভাবে পুরো আসন পরিচালনা করবেন? তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত কি ভুল ছিল?”
—
বিএনপি নেতাদের অনুসারী পরিচয় দেন মালেক
স্থানীয়রা জানান, মালেক নিজেকে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন সাবু এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের আহ্বায়ক মুনায়েম মুন্নার অনুসারী বলে দাবি করেন। তিনি বর্তমানে থানা যুবদলের আহ্বায়ক পদেও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
—
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী বলেন—
“১৭ বছরের শেখ হাসিনার দমন-পীড়নের সময়ও টিকে ছিলাম। অথচ এখন নিজ দলের লোকের কাছেই নির্যাতিত হচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নয়া পল্টন দপ্তরে চিঠি দেব। পরে ফেসবুক লাইভে পুরো ঘটনা প্রকাশ করব।”
—
মালেকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মালেকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
—
বিএনপির কাছে প্রশ্ন
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
“যুবদলের এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকে কেন বহিষ্কার করা হবে না? চাঁদাবাজি যত বাড়বে, বিএনপির ভোট তত কমবে। তাই এ বিষয়ে তারেক রহমান সাহেবের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

