ভবঘুরের ছদ্মবেশে ভয়ংকর এক সাইকো কিলার, জড়িত অন্তত ৬ হত্যাকাণ্ডে
DhakaNewsBD24
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক
সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া আলোচিত সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’-এর আসল পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, তার প্রকৃত নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট নয়, বরং সবুজ শেখ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, আদালতে আসামি যে পরিচয় ও তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই–বাছাই চলছে।
আসল পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য
পুলিশ জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোনের নাম শারমিন। সবুজের জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রাম। পরিবারের কিছু আত্মীয় বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।
হত্যার ভয়ংকর কৌশল
তদন্তে জানা গেছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারী ও পুরুষদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত সবুজ।
সে ধারণা করত—যদি ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায়, তাহলে তাদের হত্যা করা ‘ন্যায়সঙ্গত’। এই বিকৃত মানসিকতা থেকেই একের পর এক খুন করেছে সে।
কমিউনিটি সেন্টারে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ
সবশেষ ঘটনার ৩–৪ দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে প্রথমে যুবককে দোতলায় নিয়ে হত্যা করে।
এরপর তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে দুজনের মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
গ্রেফতার ও আদালতের স্বীকারোক্তি
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সবুজকে আটক করে পুলিশ। পরে কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম-এর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সোমবার রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একের পর এক হত্যার নৃশংস ইতিহাস
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়—
৪ জুলাই ২০২৫: সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা
২৯ আগস্ট ২০২৫: কমিউনিটি সেন্টারে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে
১১ অক্টোবর ২০২৫: একই স্থানে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫: আরও এক যুবককে হত্যা
সর্বশেষ: এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়
তদন্ত অব্যাহত
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন,
“আদালতে সবুজ যে তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নতুন মামলা ও ঘটনার সূত্র বের হতে পারে।”
পরিত্যক্ত ভবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ভয়ংকর সাইকো কিলারের ঘটনায় পুরো সাভারজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

