রাজধানীতে উগ্রবাদী সন্দেহে ৪ জন গ্রেপ্তার
নাশকতার আশঙ্কায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, ড্রোন ও গানপাউডার উদ্ধার করেছে ডিবি
Dhakanewsbd24
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি, তারা দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ড্রোন, জিহাদি বইসহ বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)।
ডিবি জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেপ্তারকৃতরা মিয়ানমারভিত্তিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। একইসঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদসংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার ভোরে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিম এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুরে। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর এবং আবু বক্করের বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, ১৪ রাউন্ড গুলি, তিনটি গুলির খোসা, একাধিক স্মার্টফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি মেটাল ডিটেক্টর, দুটি ড্রোন, সামরিক পোশাক, জিহাদি বই, ৯০০ গ্রাম গানপাউডার ও পাঁচ বোতল অ্যাসিড উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম রাষ্ট্রবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বুধবার বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।”
উগ্রবাদী তৎপরতা বাড়ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এভাবে বলার সুযোগ নেই। তবে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

