ঢাকাশনিবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

জামিন না চেয়ে দীপের আইনজীবীরা চাইলেন ‘সতর্কতার রিমান্ড’

admin
অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জামিন না চেয়ে দীপের আইনজীবীরা চাইলেন ‘সতর্কতার রিমান্ড’

Dhakanewsbd24
৩১ অক্টোবর ২০২৬

জামিন না চেয়ে দীপের আইনজীবীরা চাইলেন ‘সতর্কতার রিমান্ড’
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে আজ (৩১ অক্টোবর) শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। তবে রিমান্ড শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দীপের জামিন প্রার্থনা করেননি, বরং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ‘সতর্কতার রিমান্ড’-এ জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছেন।

এদিন বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানির সময় বেলা ৩টা ২৪ মিনিটে তাকে এজলাসে নেওয়া হয়। এক মিনিট পর এজলাসে আসেন বিচারক।

তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার কারণ উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিউকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে আসামি দীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ শুনানি করেন। তারা আদালতকে জানান, দীপের সঙ্গে নিহতের ছয় বছরের সম্পর্ক। ইতোমধ্যে দুই দিন ধরে তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন। মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হলে নেওয়া হোক, তবে সেটা যেন সতর্কতার সঙ্গে হয়।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আমরা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার।

পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, আসামির জামিন বাতিল করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো।

এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, আমরা তার (দীপ) জামিন চাইনি। জিজ্ঞাসাবাদ যাতে ‘সতর্কতার’ সঙ্গে করা হয়, সেই নিবেদন করছি। পরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে আবারও হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

দীপকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সৌরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসছে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা ফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার দিন নিহত তাহসিফ সৌরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেন, নিহত সাউরি তার সিনিয়র ভাই ছিলেন।

আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামি দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে বের হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারেন, সেজন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

যেসব কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়

১. হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও মোটিভ (কারণ) উদঘাটন করার জন্য।

২. এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য।

৩. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামত উদ্ধার করার জন্য।

৪. নিহত সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করার লক্ষ্যে।

৫. হত্যাকাণ্ডের মূল স্থান বা এটি কোথায় সংঘটিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর আমার ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যায়। রাত বেশি হলেও ছেলে ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবে। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েস মেসেজ পাঠায়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকেল হলেও সে ফিরে আসেনি।

২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানায়, রাজাবাড়ী ঘাট উত্তরখান এলাকাতে তুরাগ নদ থেকে আমার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ-পুলিশ আমার কাছে আমার সন্তানের মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন করে ২৯ অক্টোবর বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়