যাহা লিখব সত্য লিখব, সত্য লিখে ক্ষমা চাইবো না—
Dhakanewsbd24
প্রকাশ :২৯ মার্চ ২০২৬
এমন এক শিরোনাম যেটা আপনাদের কৌতুহল হতে পারে, হওয়ারই কথা। এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে, যিনি বর্তমানে সংসদের স্পিকার। তিনি তার যোগ্যতায় স্পিকার হয়েছে। আমরা যদি মনে করি, হয়তো তার থেকে যোগ্য ব্যক্তি দলের কাছে ছিল কিনা জানা নেই, তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, যাহা কর্মীরা মেনে নিতে হয়। কিন্তু বিএনপির এই বর্ষিয়ান নেতা, (অব.) মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, দলের গঠনতন্ত্র মানতেন না, যাহা প্রমাণ হয় বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা কলামে। দলের গঠনতন্ত্র না মানার কারণে, তাকে শোকজ করা হয়েছিল।
যাই হোক, আজকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ উদ্দিনকে নিয়ে লেখা। একজন লেখক যখন একজনের পক্ষে-বিপক্ষে লিখে, তাহলে তার সম্পর্কে কিছুটা জানতে হয়। তেমনি এই মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে, এই কথা আর নাইবা লিখলাম। মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে—এটা আমাদের জন্য গর্ব। আবার রাজনীতিবিদরা জনকল্যাণ কাজ করবে—এটাই সংবিধানের গঠনতন্ত্র। আবার একজন মানুষ মানবিক হবে—এটা সকলের চাওয়া।
এবার আসি মূল কথায়। আমরা তিন সাংবাদিক, একটা মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য—একজন পরিচালক, একজন নির্বাহী পরিচালক, আরেকজন সহকারী পরিচালক। আমরা বিগত সময়, শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময়, মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে বিএনপিকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছি। যেমন আমাদের সংগঠনে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন গয়েশচন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মানবাধিকার কমিশনার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সাংবাদিকবৃন্দ। বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার গুম-খুনের ভয় না করে, আমরা আমাদের প্রোগ্রাম চালিয়ে গিয়েছি।
একদিন মনে হলো, আমাদের অনুষ্ঠানে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখবো। এরপরে সময় করে, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বনানীর বাসায় গেলাম—ঠিক বনানী মাঠের উল্টোপাশে। অনেক গরম সে সময়। তার বাসার ছাদে দুইটা রুম আছে—একটাতে হাফিজ উদ্দিন সাহেব বসে, আরেকটা রুমে কেউ দেখা করতে আসলে সেখানে বসে। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা মেজর হাফিজ উদ্দিনের জন্য অপেক্ষা করলাম। ২ ঘণ্টা পরে অপেক্ষার পর শেষ হলো। মেজর হাফিজ উদ্দিনকে আমরা আমাদের কথা বললাম। তিনি উত্তরে বললেন, আমার থেকেও ভালো বক্তা আছে, আপনারা তাদেরকে ইনভাইট করেন।
ঠিক আছে, আমরা চলে আসলাম। একটা প্রশ্ন থেকেই গেল—আমরা প্রেসক্লাব থেকে তিনজন সাংবাদিক গেলাম, একটি বার বললেন না, “ভাই, আপনারা এসেছেন, কষ্ট করে—দুঃখিত, আমি তো যেতে পারবো না, আপনারা চা-নাস্তা করে যান।” সম্মান দিলে সম্মান কমে না।
যখন তিনি স্পিকার হলেন, তখন মনে হলো—বাংলাদেশের সংসদে একজন অমানবিক স্পিকার। এ ধরনের স্পিকারের মন-মানসিকতায় জাতি কী প্রত্যাশা করে? একজন বিতর্কিত নেতা কিভাবে স্পিকার হয়? প্রশ্নটা ছোট, উত্তরটা কত বড় হতে পারে, আমার জানা নেই।
যিনি মানুষকে সম্মান দিতে জানেন না, বাংলাদেশের ভাগ্য যেখান থেকে নির্ধারণ হয়, সেখানকার তিনি স্পিকার। ধিক্কার জানাই এ ধরনের হীনমন মানসিকতার লোককে। এ ধরনের বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর, দেশ থেকে নিয়েছে, দেশকে কিছুই উপহার দিতে পারে নাই।
আমরা কবে হব মানবিক?

