ঢাকাসোমবার , ৩০ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

সাগরে ভাসছে ১৮ বাংলাদেশির মরদেহ, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে আজিজ-দুলাল জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জন, রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে

admin
মার্চ ৩০, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাগরে ভাসছে ১৮ বাংলাদেশির মরদেহ, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে আজিজ-দুলাল
জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জন, রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে
Dhakanewsbd24
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬
ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে সাগরে ১৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের প্রধান দুই সদস্যকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে উন্নত জীবনের আশায় সাগরপথে পাড়ি জমাতে গিয়ে প্রাণ হারানো এসব বাংলাদেশির মৃত্যুর পেছনে জড়িত চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছেন তদন্তকারীরা।
জানা যায়, রাবারের নৌকায় করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের দিকে নেওয়া হচ্ছিল কয়েকজন বাংলাদেশিকে। এদের মধ্যে মৃত ১৮ জনকে দুদিন নৌকায় রেখে পরে তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যাদের অবৈধভাবে ইউরোপে নেওয়ার জন্য লিবিয়ায় জড়ো করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় জড়িত দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের একজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার আজিজ মিয়া এবং অন্যজন ছাতক উপজেলার দুলাল মিয়া। দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে আজিজ ও দুলাল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শনিবার বেঁচে ফেরা একই নৌকার ২১ বাংলাদেশি গ্রিসের কোস্টগার্ডকে জানান, মোট ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি, বাকি চারজন বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নৌকাটি পথ হারিয়ে ছয় দিন সাগরে ভাসছিল। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।
বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহায়তায় জীবিতদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহের সন্ধান পেলে দেশে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন জানান, একটি ছোট নৌকায় তারা ৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি। তাদের একটি বড় নৌকায় পাঠানোর কথা বলে শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় তুলে দেয় পাচারকারীরা।
সিআইডির মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি দূতাবাস নিশ্চিত করেছে। যেসব দালাল তাদের নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা—দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুরের পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজারের একজন। এছাড়া কিশোরগঞ্জের বাসিন্দাও রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, যে নৌকায় বাংলাদেশিদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে নেওয়া হচ্ছিল, তার চালক ছিলেন সুদানের এক নাগরিক। যাত্রা শুরুর আগে চালকের কাছে মানচিত্র ও জিপিএস দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেগুলো হারিয়ে ফেলায় দিকভ্রান্ত হয়ে নৌকাটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, খাবার ও পানির সংকটের কারণে অনেকে মারা যান। এছাড়া লিবিয়ায় যেখানে তাদের রাখা হয়েছিল, সেখানেও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। ফলে অনেকেই আগেই শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অনেক পরিবার ঝুঁকি জেনেও স্বজনদের পাঠান। কেউ কেউ দেখেন, পাশের বাড়ির কেউ ইউরোপ গিয়ে সচ্ছলতা ফিরিয়েছে। আবার অনেককে দালালরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করে। এবারের ঘটনায় জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।