সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির ‘গোপনীয়’ চিঠিতে যা আছে
Dhakanewsbd24
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) পাঠানো ওই নথিতে দুই বাংলাদেশির আটক, কারাগারে অবস্থান এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।
জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের নাম নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের হাতে পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। এর পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে।
চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে বন্দিদের ওই তালিকায় তাদের কারও মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না।
নথিতে আরও বলা হয়, বন্দিদের তালিকায় ৯৭ জনের অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলেও এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য ছিল না।
সাইবার অপরাধ ও ব্যভিচারের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের নজির নেই
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির আগে ছিল না বলে কনস্যুলেটের তথ্যে উঠে এসেছে।
সৌদি জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন সুইটি
নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। এ ছাড়া সাইবার অপরাধসংক্রান্ত তিনটি পৃথক মামলার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া কিংবা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি।
এ পরিস্থিতিতে কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট রায়ের অনুলিপি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
কনস্যুলেট জানিয়েছে, রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

