মালা খানের অফিসের সেই গোপন কক্ষের রহস্যের জট এখনো খুলেনি
Dhakanewsbd24 | প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫
গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এর বিদায়ী মহাপরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানের অফিসে একটি গোপন কক্ষের সন্ধান মেলে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই গোপন কক্ষের রহস্য এখনো পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি।
গোপন কক্ষে যা পাওয়া যায়
নাগরিক টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় অবস্থিত বিআরআইসিএম ভবনের চতুর্থ তলায় মালা খানের অফিসের সঙ্গে যুক্ত একটি গোপন কক্ষ পাওয়া যায়। কক্ষটিতে ছিল বিছানা, খাট, দুটি বালিশ, প্রেগনেন্সি টেস্টকিটসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপকরণ। সরকারি অফিসে এমন কক্ষের অস্তিত্বে হতবাক হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, মালা খান প্রায়ই ওই কক্ষে যেতেন বা হঠাৎ গেলে তাকে সেখানে পাওয়া যেত না। অনেকে জানান, গোপন কক্ষটি মালা খান ও তৎকালীন উপদেষ্টা রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরীর দুই কক্ষের মাঝখানে তৈরি ছিল, যেখানে দুই দিক থেকে প্রবেশ করা যেত। বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে একটি দরজা আছে; দরজা দুটি পারিবারিক ছবি দিয়ে সাজানো ছিল।
সহকর্মীদের সাক্ষ্য ও অভিযোগ
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানান, “আমরা সবকিছুই স্বামী-স্ত্রীর মতো দেখতাম; রবীন্দ্রনাথ রায় স্যারকে অনেক সময় খালি গায়ে দেখেছি। কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারতাম না।”
অন্যরা জানান, অফিসে মালা খানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও নানা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মালা খান বিশেষ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং পদোন্নতি ও প্রকল্প অনুমোদনে অনিয়ম করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
আফরান উদ্দিন চৌধুরী লিখেন, “একজন বিজ্ঞানী হয়ে কীভাবে এমন কক্ষ বানাতে পারেন?”
রুবেল আজাদ মন্তব্য করেন, “সব সরকারি অফিস তল্লাশি করা হোক, এরকম আরো অনেক রুম বের হবে।”
মিঠু বিশ্বাস লিখেন, “বিদেশে বিজ্ঞানীরা নোবেল পান গবেষণায়, আমাদের বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন ‘গোপন রোমান্স রুম’ আবিষ্কারের নোবেল।”
তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা
বিসিএসআইআরের মহাপরিচালক অনুপম বড়ুয়া জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে মালা খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরিচালনা বোর্ড তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়। তবে তিনি আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ পান এবং বর্তমানে স্বপদে বহাল রয়েছেন।
আগামী ২৮ অক্টোবর রিটটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
আদালতে বিচারাধীন
উল্লেখ্য, মালা খান এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। ফোন ও মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন,

