মুনিয়া হত্যা রহস্য নতুন মোড়- মূল পরিকল্পনাকারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি দাবি এক নারী
DhakaNewsBD24 | আপডেট: বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫
আলোচিত মুনিয়া হত্যা রহস্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের পর তার প্রতারণা, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেলের নানা ঘটনার পাশাপাশি মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে আসে।
‘ক্রাইম এডিশন’ নামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আফ্রিদির একাধিক ফোনালাপ, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর আফ্রিদি মুনিয়াকে হত্যার পথে ঠেলে দেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তৌহিদ আফ্রিদির ঘনিষ্ঠতা ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ডিবির উপকমিশনার হারুন অর রশীদের সঙ্গে। আফ্রিদি নাকি হারুনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবের কারণেই মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে মোড় নেয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এক ভুক্তভোগী নারী প্রতিবেদনে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন সম্পর্কের পর আফ্রিদি তাকে হুমকি দেন এবং ডিবি অফিসে ডেকে নেওয়ার ভয় দেখান। তার দাবি, আফ্রিদি সরাসরি বলেছিলেন, “মুনিয়ার যেরকম অবস্থা হয়েছে, আমারও সেরকম হবে।”
প্রকাশিত ফোনালাপে মুনিয়া ও আফ্রিদির ঘনিষ্ঠতার কথোপকথন উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে মুনিয়ার বাসায় আফ্রিদির যাতায়াতেরও ইঙ্গিত মেলে।এতে করে প্রমাণিত হয় মুনিয়া হত্যা,বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এ ঘটনার সাথে কোন সম্পর্ক নাই
এ ছাড়া, জুলাই আন্দোলনের সময় আফ্রিদি নাকি কয়েকজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে সরকারের পক্ষে কাজ করতে চাপ দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে নারীদের প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভন দেখানো এবং শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান। একটি যাত্রাবাড়ী থানায়, যেখানে অভিযোগ রয়েছে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন। অপরটি বাড্ডা থানায়, যেখানে অভিযোগ করা হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান তিনি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নতুন করে নড়েচড়ে বসেছেন বলে জানা গেছে।

