ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

ভাঙনের মুখে জামায়াতে ইসলামী–নেতৃত্বাধীন জোট

admin
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভাঙনের মুখে জামায়াতে ইসলামী–নেতৃত্বাধীন জোট
Dhakanewsbd24
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের তীব্র মতবিরোধই এই সংকটের মূল কারণ বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামী ৪০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এতে সন্তুষ্ট নয়। দলটির দাবি, দেশব্যাপী তাদের বড় ধরনের ভোটব্যাংক রয়েছে, ফলে তারা আরও বেশি আসনের দাবিদার। এ বিষয়ে তারা অনড় অবস্থানে থাকায় দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এমনকি ৪০ আসনের বাইরে কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবেও চরমোনাই পীরের দল রাজি হয়নি। ফলে জোট ভাঙনের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও নিজেদের প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় বেশি আসনের দাবি করছে বলে জামায়াত সূত্রে জানা গেছে। তাদের সঙ্গেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—দুটি দলই ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
জানা গেছে, প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি। এই ছাড়ের ফলে দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছিল জামায়াতে ইসলামী এবং জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন এনসিপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মজিবুর রহমান মনজু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের নেতৃত্বাধীন এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর থেকেই ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব তৈরি হয়।
এনসিপিসহ নতুন তিনটি দলের সঙ্গে ঐক্য হওয়ার পর জামায়াত জোটে অন্যান্য ইসলামী দলের গুরুত্ব কমে আসে। ভাগে কম আসন পাওয়ার আশঙ্কায় জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়ে তাদের আগ্রহও কমতে থাকে। এনসিপি যুক্ত হওয়ায় জামায়াতকে চাপে রাখার সক্ষমতাও আগের মতো নেই—এমন উপলব্ধি থেকেই এই অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময় স্বল্পতার কারণে এমনটি হয়েছে এবং পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে ৩০০ আসন চূড়ান্ত করা হবে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে, যা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে।
বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আট দলীয় ইসলামী জোটে রয়েছে—চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।