ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জামায়াতে ইসলামী
  9. বঙ্গবন্ধু
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. বীর মুক্তিযোদ্ধা
  13. মতামত
  14. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় সেনাবাহিনী

admin
এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় সেনাবাহিনী
Dhakanewsbd24

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬,

সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় সেনাবাহিনী
দেশের অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে দায়িত্ব পালন করা সেনাবাহিনী এখন ব্যারাকে ফেরার অপেক্ষায়। সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা এই বাহিনী দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনে রাজপথে নেমে এসেছিল দেশের বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রতিবাদী জনতার আন্দোলনে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের থানাগুলো থেকেও পুলিশ উধাও হয়ে যায়।

ওই সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় দেশের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বা সিভিল প্রশাসনের অনুরোধে মাঠে দায়িত্ব পালন করা শুরু করে। টানা ২০ মাস ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন আছেন। ৬৪ জেলায় বর্তমানে ক্যাম্প রয়েছে ৫০টি। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই ক্যাম্প রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগরে ক্যাম্প রয়েছে ১৪টির মতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশে ২০৬টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। পরে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে গত সংসদ নির্বাচনের পর বেশিরভাগ ক্যাম্প উঠিয়ে নেয় সেনাবাহিনী।

সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও সন্ত্রাস দমন, কিশোর গ্যাং দমন, অস্ত্র উদ্ধার, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য দমন, মহাসড়কে নিরাপত্তা প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টহল প্রদান, স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক আটকে বিক্ষোভ করা লোকজনকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানো, বিভিন্ন কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা, সাইবার অপপ্রচার রোধ, জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, বহুমুখী অপরাধ দমন, বিভিন্ন দুর্যোগে জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, কেপিআইভুক্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদারকরণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব এখন পর্যন্ত পালন করে যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর ১০ হাজার অস্ত্র জব্ধ ও ২২

হাজার দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

পাশাপাশি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন মহলের প্রশংসায় প্রশংসিত হয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা ভোটকেন্দ্র দখল রোধ, ব্যালট পেপার ছিনতাই ঠেকানো, ভোট গণনায় হট্টগোল ঠেকানো, ভোটকেন্দ্রে উৎসুক মানুষকে সরানো, নির্ভয়ে ভোট প্রদানে সাধারণ জনগণকে অভয় দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড খুব দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলেছেন বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনের দিন ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে সেনানিবাসের কন্ট্রোল সেন্টার থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড তদারকি করা হয়। নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা মাঠে কাজ করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর ঢাকাসহ সারা দেশে টহল জোরদার করেছিলেন সেনাসদস্যরা। জনসাধারণের জান-মাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা দিতে দেশে ২০৬টি ক্যাম্প স্থাপন করে সেনাবাহিনী।

সূত্র জানায়, দেশে কোটা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ভীত হয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে এবং জননিরাপত্তায় সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়। আন্দোলনের জেরে পতন হলেও সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৭টি ধারা প্রয়োগের ক্ষমতা পান সেনা কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রায় এক লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমান বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য মোতায়েন ছিল। নির্বাচনের সময় সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২টি জেলা, ৪১১টি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোয় মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। এসব ক্যাম্প থেকে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী মোট ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র, দুই লাখ ৯১ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করেছে। এছাড়াও ২২ হাজার ২৮২ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করে বেসামরিক প্রশাসনে হস্তান্তর করেছে। নির্বাচনের দিন সামরিক হেলিকপ্টারে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সরঞ্জাম পরিবহনে সহযোগিতা করেছে সেনাবাহিনী।

নির্বাচনের পর অধিকাংশ সেনাসদস্যই ব্যারাকে ফিরে গেছেন। এখন মাঠে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৫ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন আছেন। সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় আছেন তারা। সরকার যখনই চাইবে, তখনই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবেন।

২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’-এর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই; একটাই আকাঙ্ক্ষা দেশ ও জাতিকে সুন্দর জায়গায় রেখে সেনানিবাসে ফেরত আসব। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে সেনাবাহিনী নিজের জায়গায় ফিরে যাবে।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও মাঠে দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যে এ সরকার প্রায় দুই মাস মেয়াদ পার করেছে। সেনা সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় আছে। সরকার যখনই চাইবে, তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। তবে কবে নাগাদ তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে, তা স্পষ্ট জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।